
জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। বিশেষ নেতার একান্ত অনুগত নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন, অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে পদ পদবী বন্টন, সর্বোপরি ব্যাক্তিগত অনুসারী না হওয়ার কারণে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত নিস্ক্রিয় ও অযোগ্য নেতাদের প্রদায়ন করার কারণে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থা চলছে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মুখ থুবরে পড়েছে বিএনপির দলীয় কর্মকান্ড। সারাদেশে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি চাঙ্গা হয়ে উঠলেও এখানে নেই কোন আন্দোলন-সংগ্রাম।
বর্তমানে উপজেলা বিএনপির দায়িত্বে থাকা নেতা কর্মীরা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনে শুধুমাত্র ফেসবুকে ছবি আপলোড দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত একাধিক সুত্র জানায়, জেলার রাজনীতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর কথিত একান্ত সহকারী আব্দুর রহমান সানীর বড় ভাই কবির আহম্মেদ ভূঁইয়ার অবৈধ একচ্ছত্র খবরদারীর কারণেই এমনটি হচ্ছে।
জানা যায়, বিগত সময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক পিএসসি। তার নেতৃত্বে তৎকালীন সময়ে উপজেলা বিএনপি ছিল সবচেয়ে সুসংগঠিত। কিন্তু, অদৃশ্য কারণে বর্তমানে উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তার মতামতকে কোন প্রকার তোয়াক্কা করা হয়নি। এমন কি মানা হয়নি কোন সাংগঠনিক নিয়মনীতি।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই বছরের ৩০’নভেম্বর নবগঠিত কমিটির আহবায়ক মোঃ জিল্লুর রহমান একক ক্ষমতাবলে জেলার সকল উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় জেলা বিএনপির আহব্বায়ক কমিটির উপস্থিত স্বাক্ষরযুক্ত কপির সাথে একটি ফরওয়ার্ডিং যোগ করে তিনি বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট কমিটি ঘোষণার একক ক্ষমতা হস্তগত করে নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলীয় সূত্র জানায়, আহবায়ক মোঃ জিল্লুর রহমান জেলায় কোন প্রকার সভা না করে বাঞ্ছারমপুর উপজেলা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বহিরাগত ও বিতর্কিত নেতা মেহেদী হাসান পলাশকে নিয়ে ঢাকার একটি আবাসিক হোটেলে গোপন বৈঠক করে। উক্ত বৈঠকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে উপজেলা কমিটি গঠনের ছক আঁকে। এরই ধারাবাহিকতায় কোন প্রকার সভা না করে ২০২১’সালের ২৪’শে সেপ্টেম্বর ফেসবুকে বিবৃতি দিয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহব্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। এতে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
এখানে বিষয় হল, এলাকায় অবস্থানরত অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী থাকলেও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির কমিটিতে ঢাকায় অবস্থানরত লিয়াকত আলী ফরিদকে আহবায়ক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এ কে এম মুসা কে সদস্য সচিব করা হয়। তাদের উভয়েই বিতর্কিত নেতা মেহেদী হাসান পলাশের আশির্বাদ পুষ্ট বলে জানা যায়। । ৩১’শে সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির বাকী সদস্যদের অধিকাংশেরই বিগত আন্দোলন সংগ্রামে দলের পক্ষে কোন ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়নি।
খোজ নিয়ে জানা যায়, আহবায়ক কমিটি গঠনের পর বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়নি। অধিকন্তু কেন্দ্রের নির্দেশে চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বাঞ্ছারামপুরে সমাবেশ ডেকে এতে উপজেলা বিএনপি নেতারা যোগ দেননি। এতে করে প্রশাসনের তোপের মুখে পড়তে হয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের। উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের ঢাকায় বসে জনসভা ডাকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের এমন বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা করতে ব্যার্থ হলে কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার কঠিন নির্দেশনা থাকায় দায় সারাতে উপজেলার নেতারা এমনটি করেছে বলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ।
অথচ, জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ জিল্লুর রহমান ও জেলা বিএনপির সদস্য বেলালুদ্দিন সরকার তুহিন (বিকাশ তুহিন) বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির এসব ব্যর্থ নেতাদের পক্ষেই সাফাই গাইছেন বলে তাদের অভিযোগ। সরজমিনে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত এক বছরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কার্যত উপজেলা নেতৃবৃন্দের কোন যোগাযোগ নেই।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানায়, এক সময় বিএনপির দূর্গ বলে পরিচিত ছিল (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-৬) বাঞ্ছারামপুর সংসদীয় আসনটি। কিন্তু সঠিক নেতৃত্বের অভাবে এখন দলটি এখানে ক্রমশ: কোনঠাসা হয়ে পড়ছে। এদিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে সম্মেলন করে কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও সেখানে একটি ইউনিয়নেও সম্মেলন হয়েছে বলে প্রমান মেলেনি। বর্তমানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও তার সহযোগিরা আগামী ০৫ই নভেম্বর ঢাকায় উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করার পায়তারা করছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে জেলা বিএনপির আহবায়ক তার একক ক্ষমতা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, বিএনপির ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটির সদস্য ছাড়া অন্যকেউ উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে কোন পদে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারবে না। শুধু তাই নয়, প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর প্রস্তাবক ও সমর্থককেও যে কোন ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হতে হবে। এই কারণে উপজেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সভাপতি ও সাবেক এমপিসহ অনেক জনপ্রিয় পরীক্ষিত নেতা সম্মেলনের প্রার্থী হতে পারছেন না। এ’ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক পিএসসি জানান, নিছক ব্যক্তিগত স্বার্থে জেলা বিএনপির আহবায়ক এধরনের আজগুবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বিএনপির গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সবসময় বিএনপির ঘাটি হিসেবে বিবেচিত হত। এখনও দলের প্রায় ৯৯’ভাগ নেতাকর্মী আমার সাথে রয়েছে। একটি জনপ্রিয় সংগঠনকে নিছক ব্যক্তি স্বার্থে কুক্ষিগত করতে চাইলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবেনা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেক্স ।। বিডি টাইমস নিউজ





























