যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেল উৎপাদন দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের জোট ওপেক প্লাস। এতে দেখা দিয়েছে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা। বুধবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় জোটের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তেলের বাজারে নিজেদের আধিপত্য ও দাম ধরে রাখতে ওপেক প্লাস এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ওপেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দৈনিক বিশ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানো হবে। সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা আসায় মূল্য স্থিতিশীলতা আনতে এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওপেকের দুই সদস্য সৌদি আরব ও রাশিয়া। তেল উত্তোলন কমানো নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের আগেই বিশ্ববাজারে বেড়ে যায় তেলের দাম। এর দর গত মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেলে ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ ডলারের মতো বেড়ে প্রায় ৯২ ডলার হয়েছে। আর বুধবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। বিশ্ববাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ৩ ডলারের মতো বেড়ে সাড়ে ৮৬ ডলার হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল উৎপাদন কমানোর পদক্ষেপ তেলের বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেবে, যার প্রভাব পড়বে দামে। তবে ওপেক সদস্যরা বলছে, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমানোর বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই বলে আসছিল ওপেক প্লাসের সদস্যরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্ররা বারবার উৎপাদন না কমাতে অনুরোধ জানিয়েছে। তাতে মত পাল্টায়নি ওপেক। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ছাড়াও এই সংস্থার অন্যতম সদস্য এখন রাশিয়া। বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকে রাশিয়ার তেল নেওয়া কমিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) পশ্চিমা জোট। আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর ইইউর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।ফলে প্রয়োজন মেটাতে এখন মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল কেনার পথে হাঁটছে ইউরোপ। এতে ইউরোপের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়েছে ভারতসহ এশীয় দেশগুলো।














