
বরিস জনসন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং কনজারভেটিভ পার্টির নেতার পদ থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য হওয়ার পর শুরু হয় তার উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া। যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনে ভোটাভুটি শেষ হয়েছে আগেই। সোমবার (৫’ই সেপ্টেম্বর) যার ফল ঘোষণার কথা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর বলছে, কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত নতুন নেতাই যাবেন ১০’নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে শুরুতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাক এগিয়ে থাকলেও লিজ ট্রাস এগিয়ে গেছেন শেষ লড়াইয়ে। লিজ ট্রাস কীভাবেই বা বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন মেরি এলিজাবেথ ট্রাস? ১৯৭৫ সালের ২৬’জুলাই ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে জন কেনেথ এবং প্রিসিলা মেরি ট্রাসের ঘরে জন্মগ্রহণ। ছোটবেলা থেকেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন এলিজাবেথ নামে। তার বাবা ছিলেন লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক। মা-ও ছিলেন শিক্ষক। ট্রাসের বয়স যখন চার বছর, তখন তার পরিবার চলে আসে স্কটল্যান্ডে। অক্সফোর্ডের মেরটন কলেজে পড়াশোনা করেছেন ট্রাস। সেসময় লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সক্রিয় ছিলেন তিনি। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের প্রেসিডেন্ট এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট যুব ও ছাত্রদের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন লিজ ট্রাস। তবে ১৯৯৬ সালে স্নাতক হওয়ার পর যোগ দেন কনজারভেটিভ পার্টিতে।
থিঙ্ক ট্যাঙ্ক রিফর্মের ডেপুটি ডিরেক্টর হওয়ার আগে তিনি শেল অ্যান্ড ক্যাবল অ্যান্ড ওয়্যারলেসে কাজ করেছেন। ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন লিজ ট্রাস। নির্বাচিত হয়েই শিশু যত্ন, গণিত শিক্ষা এবং অর্থনীতিসহ দেশের বেশ কয়েকটি নীতির ক্ষেত্রে সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের নারী ও সমতা বিষয়ক মন্ত্রী এবং ২০২১ সাল থেকে পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ এবং উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেরি এলিজাবেথ ট্রাস। ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে এবং বরিস জনসনের অধীনে তিনি মন্ত্রিসভার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। লিজ ট্রাস অর্থনৈতিকভাবে নব্য উদারনৈতিক এবং সামাজিকভাবে রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যুক্ত। প্রায় দুমাস ধরে চলা কনজারভেটিভ পার্টির নেতা এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় লিজ ট্রাসের প্রতিদ্বন্দ্বি সাবেক চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক। বিবিসি জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নতুন প্রধানের নাম ঘোষণা করা হবে। আর এর মাধ্যমে শুরু হবে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া।
নির্বাচনের জন্য যুক্তরাজ্যে এবার সাধারণ ভোট হচ্ছে না। এর পরিবর্তে বরিসের উত্তরসূরি নির্বাচন করছেন কনজারভেটিভ পার্টির প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্য। বিবিসির খবরে বলা হয়, ব্রিটেনে যখন কোনো প্রধানমন্ত্রী তার মেয়াদকালের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা করেন তখন সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করা হয় না। এর পরিবর্তে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা কেবল একজন নতুন নেতা বেছে নেন। বরিস জনসন যখন পদত্যাগের কথা ঘোষণা করলেন তখন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি এবং দলের সদস্যদের পরবর্তী পদক্ষেপ হয় তার উত্তরসূরি বেছে নেয়া। এই বাছাই প্রক্রিয়ার প্রথম রাউন্ডে পার্লামেন্টে শুধুমাত্র কনজারভেটিভ পার্টির এমপিরা ভোট দেন। কয়েক দফার এ ভোট শেষে দুজন প্রার্থী বিজয়ী হন। আর তারা হলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী বা চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার ঋষি সুনাক। একাধিক প্রকাশ্য জনসভায় এবং টেলিভিশন বিতর্কে পরস্পরের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হতে দেখা গেছে দুজনকে। নির্বাচনের প্রাথমিক পর্বে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুনাক এগিয়ে থাকলেও, ক্রমশ ব্যবধান কমাতে থাকেন লিজ ট্রাস। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ট্রাসের দিকেই পাল্লা ভারি ছিল।
কনজারভেটিভ পার্টির নতুন প্রধান মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্কটল্যান্ডের বালমোরালে সাক্ষাৎ করবেন রানি এলিজাবেথের সঙ্গে। সেখানে ক্ষমতাসীন দলটির নতুন প্রধানকে সরকার গঠন করার আহ্বান জানাবেন রানি। ট্রাস কিংবা সুনাক, যার হাতেই ক্ষমতা যাক না কেন; ২০১৫ সালের ভোটের পর তিনিই হবেন ব্রিটেনের চতুর্থ কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী।















