জহির সিকদার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইইএনও)র হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছে ১৫ বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের মোজাম্মেল হক কাইয়ুম মিয়ার মেয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৫) এর সহিত উপজেলার একই ইউনিয়নের সাটিরপাড়া গ্রামের তাহের মিয়ার ছেলের সাথে গোপনে মেয়ের বাড়িতে বাল্যবিবাহের প্রস্তুতি চলছিল।এমন খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে উপস্তিত হয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ।

এসময় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাবেয়া আসফার সায়মাসহ থানা পুলিশের সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ জানান, গোপনে বাল্যবিয়ে প্রস্তুতি চলছিল এমন খবরের ভিত্তিতে মেয়ের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে কিশোরীর পরিবারের সাথে কথা বলে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ বিষয়ে ইউএনওএ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ বলেন,বাল্যবিবাহের ভয়ংকর সব কুফলের কথা বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে বাল্যবিবাহ পুরোপুরিভাবে নির্মূল করা হবে। সেই মোতাবেক বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ প্রবর্তন করা হয়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিয়মিত সভা, সমাবেশ করা হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করার জন্য সরকারের কমপক্ষে ১৫ টি মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে
অবগত করে বাল্যবিবাহ থেকে দূরে থাকার জন্য বারংবার অনুরোধ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন,বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটির উপজেলা পর্যায়ের কমিটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিটি ইউনিয়নের সাধারণ জনসাধারণ এবং মেম্বার থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান পর্যন্ত সকলেরই দায়িত্ব বাল্যবিবাহের খবর উপজেলা প্রশাসনের নিকট জানানো। কিন্তু আসলেই কি আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি? অনেক সময় বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর আমি খবর পাই। ৮০% সময়েই পাই না। এভাবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া কিংবা স্বনির্ভর হওয়ার আগেই একজন মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয়া কোনো ভাবেই কাম্য নয়। যার যার অবস্থান থেকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে আশা করা যায় সমাজে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। গত ২ মাসে অত্র উপজেলায় বাল্যবিবাহ বন্ধ করার এটি দ্বিতীয় ঘটনা এবং অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, উভয় ক্ষেত্রেই আমরা স্থানীয় পর্যায় থেকে কোনো সংবাদ পাইনি। যা একই সাথে হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক। ইউএনওমেয়েটির বাবাকে আইনের আওতায় এনে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এর ৮ ধারায় ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার টাকা) অর্থদণ্ড আরোপ করে b I তা আদায় করেন।পাশাপাশি মেয়ের বাবা, মা এবং স্বয়ং মেয়েটির কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেয়া হয় যে মেয়ের বয়স ১৮ বছর হবার আগে তারা মেয়ের বিয়ের জন্য কোনোরূপ ব্যবস্থা নিবেন না ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে