নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। তাই একটু কম দামে পণ্য কিনতে সরকারের খোলাবাজারের ট্রাকের সামনে দীর্ঘলাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন। সেখান থেকে বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে চাল, ডাল, তেল, আটা, চিনি ও পেঁয়াজ কিনছেন তারা। সিরাজগঞ্জের সাইফুল আলম। চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকেন। মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে টিসিবির ট্রাকের অপেক্ষায় তিন ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এক প্রকার যুদ্ধ করেই পেলেন পণ্য।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি রাজধানীসহ দেশের সব মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করছে। ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা ৩০ টাকা দরে স্বর্র্ণা জাতের ৫ কেজি চাল। ৫৫ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি চিনি, ১১০ টাকা দরে দুই থেকে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল, ৩০ টাকা কেজি দরে ২ কেজি পেঁয়াজ এবং ৬৫ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে পারেন। কম দামে পণ্য কিনতে প্রতিটি ট্রাকের সামনে দীর্ঘলাইন। শুধু স্বল্প আয়ের মানুষই নয়, মধ্যবিত্তরাও আছেন এই লাইনে। বাজারমূল্যের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে চাল-আটা কিনতে ওএমএস এর ট্রাকের সামনে প্রতিদিনই লম্বা হচ্ছে মানুষের সারি। তবে ট্রাকের সামনে যে পরিমাণ মানুষ ভিড় করেন সেই তুলনায় পণ্য না থাকায় সবাইকে দিতে পারেন না ডিলাররা। আবার একই ব্যক্তি যাতে বারবার পণ্য নিতে না পারে সে জন্য নাম লিখে স্বাক্ষর করে পণ্য দেয়া হচ্ছে।

খাদ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সারাদেশের খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস কেন্দ্র ১৮৯৪টি। এর মধ্যে ঢাকাতে ১৪৭টি দোকান ও ২০টি ভ্রাম্যমান ট্রাকে চাল ও আটা বিক্রি করছে। টিসিবি ও খাদ্য অধিদফতরের এই কার্যক্রম তদারকির জন্য আলাদা পরিদর্শক দল কাজ করছে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে