গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ। প্রথম দিনে হবে এ ইউনিটের বিজ্ঞান শাখার ভর্তি পরীক্ষা।এই গুচ্ছে থাকা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ছাদেকুল আরেফিন জানান, দেশের ২৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্র হবে। বিজ্ঞানে আবেদনকারী ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। তিন দিনে তিনটি গ্রুপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।তিনি জানান, ২৪ অক্টোবর মানবিকের-বি ইউনিট ও আগামী ১ নভেম্বর বাণিজ্যের-সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হবে। ভর্তি পরীক্ষা হবে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে তিনটি ইউনিটে পরীক্ষা হবে। প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে আসন রয়েছে মোট ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন দুই লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ‘ক’ ইউনিটে এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘খ’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘গ’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ জন আবেদন করেছেন।

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হবে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে। এতে মোট ১০০ নম্বরের এমসিকিউ (মাল্টিপল চয়েস অব কোয়েশ্চেন্স) পরীক্ষা নেয়া হবে। পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর। তবে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না।গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো হলো- ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

অন্যদিকে, দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাকেন্দ্র খোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনটিতে টিকা দেয়াও শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আশা করছে এ মাসের মধ্যেই টিকা পাবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী করোনা টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। টিকার গতি বাড়াতে ৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে বসানো হয়েছে টিকাকেন্দ্র।

জাহাঙ্গীরনগর এবং সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়েও টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী তিন লাখ ১৭ হাজার। যারা এক ডোজ টিকাও নেননি, তাদেরকে আবাসিক হল ও ক্লাসে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।ইউজিসির হিসেবে, এখনো টিকা নেয়নি ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৬টিতে মেডিকেল সেন্টার আছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, শিগগিরই সবকটিতে টিকাকেন্দ্র চালু হবে। এর জন্য দেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষণ। সরকারি-বেসরকারি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল সেন্টার নেই, তারা মহাখালীর কোভিড হাসপাতালে টিকা নিতে পারবে।

তথ্যঃ ইন্ডিপেনডেন্ট

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে