আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফাইজার বা অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই ডোজ টিকা করোনার অতিসংক্রামক ডেল্টা ধরন প্রতিরোধে কার্যকর বলে ইংল্যান্ডের মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। ডেল্টার বিরুদ্ধে কোন টিকা বেশি কার্যকর, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। এর মধ্যেই দেখা গিয়েছে, দু’টি আলাদা আলাদা সংস্থার টিকা কাউকে দেওয়া হলে, তাঁর শরীরে অ্যান্টিবডি বেশি পরিমাণে তৈরি হচ্ছে। সকলের ক্ষেত্রে এমনটা না হলেও, অনেকের ক্ষেত্রেই তেমন হচ্ছে বলে দেখা গিয়েছে।

সমীক্ষা বলছে, ফাইজার বা অ্যাস্ট্রাজেনেকা (কোভিশিল্ড)-র দু’টি টিকা নেওয়ার পর কারও শরীরের যত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, এই দুই সংস্থার একটি করে টিকা মিশিয়ে নিলে তার চেয়ে বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিছু দিন আগেই এই বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাদের মতে, আলাদা আলাদা সংস্থার দু’টি টিকা নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসকেরাও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র মতোই এই পদ্ধতিকে পুরোপুরি সবুজ সিগন্যাল দিচ্ছেন না। তাঁদের অনেকের মতে, এ বিষয়ে এখনও যথেষ্ট পরিমাণে তথ্য বা পরীক্ষার ফল হাতে নেই। ফলে এখনই এই ভাবে টিকাকরণ করা অনুচিত।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনার টিকা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান ও বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে মার্কিন কোম্পানি ফাইজার ও মডার্না তাদের তৈরি টিকা ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে বলে দাবি করে। তবে ওই দুই টিকার চেয়ে অক্সফোর্ডের টিকার দাম বেশ কম। আর এর সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও জটিলতা কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ পর্যন্ত যেসব টিকায় স্বীকৃতি দিয়েছে, সেগুলো হলো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং চীনা দুটি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত টিকা। এর মধ্যে সবগুলোই সব দেশের সরকারের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। এ পর্যন্ত ১১৯টি দেশের সরকার এ টিকাকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম স্বীকৃত টিকা হলো চীনের ক্যানসিনোবায়োর উদ্ভাবিত টিকা। এখন পর্যন্ত হাতেগোনা কয়েকটি দেশ এতে স্বীকৃতি দিয়েছে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে