চাপ বেড়েছে সড়ক মহাসড়কে, ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরছে মানুষ। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই মানুষ ছুটছে গ্রামে। পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে করোনা সংক্রমণকে উপেক্ষা করে আজও ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। রাজধানীর সব বাস টার্মিনালে রয়েছে অসহনীয় ভিড়। সড়ক-মহাসড়ক ও ফেরিঘাটে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় বেড়েছে সেইসাথে বেড়েছে যানবাহনের চাপ ও ভোগান্তি।

যানজটে গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে। এদিকে, মহাসড়কে যানজট থাকায় নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় পৌঁছাতে পারছে না বাস ও গরুবাহী ট্রাকগুলো। এতে দীর্ঘ সময় কাউন্টারে অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। বাস টার্মিনালের আশেপাশের সড়কেও রয়েছে চরম যানজট। এদিকে, টোল প্লাজা বন্ধ ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে ২৫ কিলোমিটারের যানজট রয়েছে। ঘাটগুলোতেও রয়েছে যানবাহন ও মানুষের বাড়তি চাপ।

আজগর আলী নামের এক যাত্রী জানান, নবীনগর থেকে কালিয়াকৈর যাওয়ার উদ্দেশে বাসে রওয়ানা হন। বাস আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পৌঁছালে তীব্র যানজটে আটকে যান। ৫ মিনিটের রাস্তা প্রায় ২ ঘণ্টা অতিক্রম হলেও বাস সামনে এগোতে পারেনি। তিনি বলেন, যানজটে শত শত গাড়ি আটকা পড়েছে। তীব্র গরমে যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠার মতো অবস্থা। কাছাকাছি দূরত্বের যাত্রীরা বাস থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যে রওয়ানা হয়ে যান। গাড়িতে দুই আসনে একজন যাত্রী বসানোর নিয়ম থাকলেও পরিবহণ শ্রমিকরা তা মানেননি। কিছু দূর পরপরই যাত্রী তুলেছেন আবার নামিয়েছেন। করোনার মধ্যে এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।

ভোর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ির দীর্ঘ সাড়ির সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টাঙ্গাইলের শহরের বাইপাস পর্যপ্ত তৈরি হয় ২৫-৩০’কিলোমিটার যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা। গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সকাল থেকে বাড়ছে যানবাহনের চাপ। এ কারণে শনিবার সকাল থেকেই আজ টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত থেমে থেমে চলছে গাড়ি। একই অবস্থা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায়। দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। দূরপাল্লার যানবাহনে অনেকটা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও উল্টো চিত্র ছোট ছোট যানবাহনে। দীর্ঘ লকডাউনের পর ছুটি হওয়ায় এবার রাস্তায় মানুষ বেশি থাকবে, তাই তাদের নিরাপত্তাসহ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছে গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগ।

যানজট নিরসনে কাজ শুরু করেছে হাইওয়ে পুলিশ। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট না থাকলেও যানবাহনে চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। যার কারণে কয়েকটি পয়েন্টে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কের চন্দ্রার পর জিরানী থেকে ইপিজেড পর্যন্ত যানজট থাকায় মাঝেমধ্যেই সেই যানজট দীর্ঘ হয়ে চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌরুটে ১৩টি ফেরি ও ৮৩টি লঞ্চ চলাচল করলেও মানুষের চাপ সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই গাদাগাদি করে ফেরি, লঞ্চে চাপছেন যাত্রীরা। ভোগান্তি রয়েছে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটেও। নদীতে স্রোত ও পশুবাহী ট্রাকের চাপে ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি।

এদিকে, নদীতে স্রোত ও পশুবাহী ট্রাকের চাপে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত পারের অপেক্ষায় রয়েছে যানবাহন। এর মধ্যে বেশিরভাগই পশুবাহী ট্রাক। একই অবস্থা মুন্সিগঞ্জ শিমুলিয়া ঘাটে। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই গাদাগাদি করে ফেরি, লঞ্চে পার হচ্ছেন যাত্রীরা।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে