করোনা থেকে পুনরুদ্ধার নয় বরং প্রস্তাবিত বাজেট গতানুগতিক হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চলমান মহামারি পরিস্থিতিতে আর্থ- সামাজিক অবস্থা উপেক্ষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এছাড়াও খরচ সামাল দিতে নতুন প্রকল্প না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তবে, কর খাতে বিভিন্ন ছাড় ও সুবিধা দেয়ায় সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীরা। কোভিড-১৯ সঙ্কটকালে দেশে দরিদ্রের তালিকায় যত নতুন মুখ যোগ হয়েছে, তাদের নিয়েও স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বাজেটে। উপেক্ষিত থেকেছে মহামারীকালে চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ারাও।

ফলে জীবন ও জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে শিরোনামে যে বাজেট মুস্তফা কামাল হাজির করেছেন, তাতে নামের সঙ্গে পরিকল্পনার বিস্তর ফারাক থেকে যাচ্ছে। অবশ্য রপ্তানিমুখী শিল্পে কর অবকাশ’সহ নানা সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে এটা ভাবার অবকাশ থাকছে যে ব্যবসায়ী অর্থমন্ত্রী বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চাইছেন। করোনা পরিস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো বাজেট ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এবারের বাজেটে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাত এবং মহামারি পরবর্তী অর্থনীতিকে দেয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যদিও বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থাকে বরাবরই। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজেটে উপেক্ষিত হয়েছে মহামারি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও প্রণোদনার বিষয়। আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা গেলেও ব্যয়ের ক্ষেত্রে তেমন কোনো উন্নতি নেই। আয়ের জন্য অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে সরকার।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও তার সুবিধা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন পায় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখার তাগিদ অর্থনীতিবিদদের। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি নয় বরং বাজাটে কুটির, ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র শিল্পের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার পরামর্শ তাদের।

প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট কর ছাড়সহ দেশীয় শিল্পে কর বা ভ্যাট ছাড় দেয়ায় সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীরা। এতে দেশীয় শিল্প বিকাশের পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদী তারা। করোনা পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা ঘাটতিকে তেমন অস্বাভাবিক মনে করেছেন না অর্থনীতিবিদেরা। বর্তমানে ঋণের প্রবাহ স্বাভাবিক এবং নতুন বিনিয়োগ না হওয়ায় ব্যাংকের কাছে তারল্য রয়েছে। তাই ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে অর্থ সংগ্রহ করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে