
নির্বাচন কমিশনকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কার্যক্রম ছেড়ে দিতে বলেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনার চিঠি ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকারকে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করা ও এ সংক্রান্ত সব কার্যক্রমের দায়িত্বে রয়েছে ইসি। ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হয় ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কার্যক্রম। তবে শুরু থেকেই এনআইডি নিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের। পরিচয়পত্রে তথ্য ভুল করাসহ দেখা দেয় নানা সমস্যা। এসব ভুল সংশোধনেও দীর্ঘ সময় লাগে বলে অভিযোগ অনেকের।
ভোটার পরিচয়পত্র থেকেই বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র- এনআইডির ধারণাটি পোক্ত হয়৷ এনআইডি আইন করা হয় ২০১০ সালে৷ এতদিন নির্বাচন কমিশন এনআইডির দায়িত্ব পালন করে এলেও এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগকে এই দায়িত্ব দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে৷ সেটা করতে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব তৈরি করা, জাতীয় পরিচয়পত্র আইন সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশন থেকে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো সুরক্ষা বিভাগে হস্তান্তরের কাজ করতে হবে৷ তবে এর বিরোধিতা করছে নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন৷
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিবকে গত ২৪ মে পাঠানো চিঠিতে এনআইডি’র কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগে ন্যাস্ত করতে তাদের তিন ধরনের কার্যক্রম নিতে বলা হয়েছে:-
১.জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন সংক্রান্ত সব ধরনের কাজ সুরক্ষা বিভাগে ন্যাস্ত করতে রুলস অব বিজনেস-১৯৯৬-এর ১০ অনুসরণ করে একটি সয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো৷২. জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০১০-এ ‘নির্বাচন কমিশন’-এর পরিবর্তে ‘সরকার’ শব্দ অন্তর্ভূক্ত করাসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা করা৷৩. সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কাজ পরিচালনার জন্য বিদ্যমান অববাঠামো ও জনবল নির্বাচন কমিশন হতে সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ সুরক্ষা বিভাগের অধীনে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ তবে সেটা করতে হলে কিছু আইন ও অ্যালোকেশন অব বিজনেস সংশোধন করার দরকার আছে৷ সেটা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ করবে৷ তারা সেটা করলে তারপর আমরা কাজ শুরু করবো৷ এখনো আইনগতভাবে কিছু করার অবস্থা এই ডিভিশিনের হয়নি৷ তারা সেই কাজ করছেন৷ সেটা সম্পন্ন হলে সুরক্ষা বিভাগ কাজ শুরু করতে পারবে ৷ এটা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে৷
নির্বাচন কশিনের অবকাঠামো ও জনবল হস্তান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন হলে তখন আমরা ওই কাজটি শুরু করতে পারবো। নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এর বিরোধিতা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছে৷ তারা বলছে, যে কাজটি নির্বাচন কমিশন করছে সেটা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করাতে গেলে নতুন জনবল ও অবকাঠামো তৈরিতে কোটি কোটি টাকা খরচ হবে৷ আর ভোটার আইডি কার্ড করতে গিয়ে কমিশন নাগরিকদের ৩২ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে৷ তাই কাজটি কমিশনের হাতে থাকাই যুক্তিযুক্ত হবে৷
সরকার আগেই অবশ্য এনআইডির দায়িত্ব থেকে নির্বাচন কশিমনকে বাদ দেয়ার চিন্তা করেছিল, কারণ, এনআইডি হবে দেশের সব নাগরিকের জন্য, শুধু ভোটারের জন্য নয়৷ এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তাসহ আরো অনেক কাজে এটা ব্যবহারোপযোগী করতে চায়৷ গত আগস্টে এ নিয়ে সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগও আগ্রহ দেখায়৷ তবে শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগকে উপযুক্ত মনে করা হয়।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























