ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নারদা আর্থিক দুর্নীতি মামলায় শুনানি হয়েছে কোলকাতা হাইকোর্টে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ফের ওই মামলার শুনানি হবে। এরফলে ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে। গত(সোমবার) নারদাকাণ্ডে ধৃত রাজ্যের মন্ত্রী ও কোলকাতা পৌরসভার প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাবেক মন্ত্রী ও বিধায়ক মদন মিত্র ও সাবেক বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই।

আজ কোলকাতা হাইকোর্টে ওই মামলার শুনানি হয়। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পুনরায় হাইকোর্টে শুনানি হবে। হাইকোর্টের শুনানি শেষে রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘কোলকাতা পৌরসভার প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম, রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় যখন সর্বাত্মকভাবে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে একটা লড়াই চালাচ্ছেন, একটা প্রশাসনিক সিস্টেম কাজ করছে, তখন সহযোগিতার কোনও বালাই নেই কেন্দ্রীয় সরকারের। উল্টে পশ্চিমবঙ্গের উপরে, তৃণমূল কংগ্রেসের উপরে, বাংলার মানুষের উপরে তাদের (বিজেপি) বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার যে রাগ, হেরে যাওয়ার যে আক্রোশ, সেটার জন্য অস্থিরতা তৈরি করতে এই জিনিষটি তারা করেছেন। আজকে তারা চেষ্টা করলেন বিষয়টাকে যতরকম ভাবে জটিল করা যায়। তবে এটি আইনি প্রক্রিয়া। মহামান্য আদালত, মহামান্য কোলকাতা হাইকোর্ট যেটা ঠিক মনে করবেন, তারা সেটা করবেন। ফলে আমরা আগামীকালের জন্য (শুনানি) অপেক্ষা করব।

আজ(বুধবার) কোলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমন্বিত বেঞ্চে শুনানি হয়। সোমবার বিশেষ সিবিআই আদালত ধৃত নেতা-মন্ত্রীদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে। কিন্তু ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে ওইদিন রাতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সিবিআই কর্মকর্তারা। বিশেষ আদালতের নির্দেশের উপরে বুধবার পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে কোলকাতা হাইকোর্ট। গতকাল (মঙ্গলবার) ওই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান অভিযুক্ত নেতা-মন্ত্রীরা। নেতা-মন্ত্রীদের হয়ে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি ও অন্যরা। অন্যদিকে, সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। আজ সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, এঁরা অসহযোগিতা করেছেন এমন কোনও উদাহরণ আছে? এই করোনাপরিস্থিতিতে এঁদের শুধুশুধু জেলে রাখার প্রয়োজন আছে কী? জবাবে তুষার মেহতা বলেন, অভিযুক্তরা জেলে নেই, তাঁরা হাসপাতালে আছেন। তিনি বলেন, ‘এই আদালত সিবিআইকে নিয়োগ করেছিল। তাদেরকেই কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যাতে ন্যায্য বিচার না হয় তার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাল্টা সওয়াল করতে গিয়ে অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘অভিযুক্তদের না জানিয়ে আদালতে মামলা হচ্ছে। তখন তাদের ন্যায় বিচারের কথা মনে ছিল না?’  এভাবে উভয়পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সওয়াল জবাব শেষে আজকের মত শুনানি শেষ হয়। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ফের ওই মামলার শুনানি হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে রাজ্যের অভিযুক্ত নেতা-মন্ত্রীদের।

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে