দেশের বাজারে বিট কয়েন বা ডিজিটাল মুদ্রা নিষিদ্ধ হলেও এর অবাধ ব্যবহার হচ্ছে। অর্থ পাচার, অনলাইন গেমিং এর লেনদেন, মাদক ও অস্ত্র কেনাবেচা এমনকি জঙ্গি অর্থায়নও হচ্ছে বিট কয়েনের মাধ্যমে। কিন্তু বিট কয়েন সংক্রান্ত কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা না থাকায় কাউকেই সনাক্ত কর যাচ্ছে না। তবে, বিট কয়েনের মাধ্যমে লেনদেন হয় এমন কিছু অনলাইন গেমিং অ্যাপ চিহ্নিত করে তদন্ত করছে গোয়েন্দারা।

বিশ্বের সর্বপ্রথম মুক্ত সোর্সের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা হলো বিট কয়েন। ২০০৯ সালে জাপানের সাতোশি নাকামোতা নামের ছদ্মনামি কোন এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শুরু করে বিট কয়েনের প্রচলন। যদিও পরে এই নামে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব মেলেনি। গ্রাহকের সাথে গ্রাহকের সরাসরি যোগাযোগে অনলাইনে লেনদেন হয় বিট কয়েন।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ বিশ্বের মোট ৬৯টি দেশে বিট কয়েনে লেনদেনের সরকারি স্বীকৃতি রয়েছে। তবে বাংলাদেশসহ ৬টি দেশের সরকার বিট কয়েনকে নিষিদ্ধ করেছে। বর্তমানে একেকটি বিট কয়েনের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫০’লাখ টাকা। দেশে বিট কয়েন নিষিদ্ধ হলেও এর লেনদেন থেমে নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, বিদেশী কিছু গেম খেলতে বিট কয়েনের প্রয়োজন হয়। তরুণ সমাজের বড় একটি অংশ গোপনে সেসব গেম খেলছে। আর এতে অনলাইনে লেনদেন হচ্ছে বিট কয়েনের মাধ্যমে।

টিকটক, লাইকি, স্ট্রিমকার ডেটিং অ্যাপসহ নানা কিছুর লেনদেনও হচ্ছে বিট কয়েনে। এগুলোর মূল সার্ভাস দেশের বাইরে। দেশে বিট কয়েনের লেনদেন যত বাড়ছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠাও তত বাড়ছে। কারণ জঙ্গি অর্থায়ন থেকে শুরু করে মাদক, অস্ত্র কেনাবেচাসহ অবৈধসব লেনদেন বিট কয়েনের মাধ্যমে হচ্ছে বলে জানান র‌্যাবের মুখপাত্র। বিট কয়েনের অবৈধ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে