ভারতের দিল্লির শ্মশান-কবরস্থানে জায়গা নেই। করোনা মৃতদের সৎকারের জন্য পার্ক-মাঠে তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী শ্মশানের। নেই পর্যাপ্ত কাঠ, এমনকি দেখা দিয়েছে সৎকারে লোকবলের সংকটও। এদিকে, দিল্লিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে ১১৫৮ জন কম বলে উঠে এসেছে এনডিটিভির তদন্ত প্রতিবেদনে।
শ্মশানে একসঙ্গে এতো দাহ, আগে কখনো দেখেনি ভারতবাসী। এ যেন এক মৃত্যুপুরী। করোনায় মৃতদের স্বজনদের সঙ্গে নিয়েই দিন-রাত কাজ করছেন শ্মশান কর্মীরা। দেখা দিয়েছে পর্যাপ্ত কাঠ ও সৎকার কাজে লোকবলের সংকটও। এদিকে ভারতে করোনায় মোট প্রাণহানি দুই লাখ ছাড়ালো। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ২শোর বেশি মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে দেশটিতে। একদিনে ভারতে নতুন শনাক্ত হয়েছে ৩ লাখ ৬২ হাজার রোগী। ২৪ ঘণ্টায় শুধু মহারাষ্ট্রেই মৃত্যু হয়েছে ৯শ জনের। নতুন শনাক্ত ৬৬ হাজার। গত এক সপ্তাহে দেশটিতে সৎকার বেড়েছে ৩ থেকে ৪ গুণ। ফলে পার্কিং ও মাঠে তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী শ্মশানে। দিল্লিতে ২৫টি স্থায়ী শ্মশানে, করোনায় মৃতদের চাপ বাড়ায়, তৈরি করা হয়েছে প্রায় একশো অস্থায়ী শ্মশান।
এদিকে, শ্মশান-কবরস্থানে যতো করোনা রোগীর দেহ সৎকার হয়েছে, তার সঙ্গে দিল্লি সরকারের দেয়া হিসাবে পার্থক্য বিশাল। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি তথ্যের পার্থক্য কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৮ জনের।
সরকারি হিসাবে দিল্লিতে করোনায় মৃত্যু ১৮-২৪ এপ্রিল ১,৯৩৮ জন দেখিয়েছে তবে, এনডিটিভির তদন্তে উঠে এসেছে ৩,০৯৬ জন। এনডিটিভির তদন্তে আরো দেখা গেছে, এক সপ্তাহে তিন হাজার ৯৬ জনই হাসপাতালে মারা গেছেন। এদিকে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে হরিয়ানা সরকার। ভারতের আসামে প্রতিদিন ৪০ মেট্রিকটন তরল অক্সিজেন পাঠানোর কথা জানিয়েছে ভুটান সরকার। এছাড়া কুম্ভ মেলা শেষ হওয়ার পর বুধবার থেকে উত্তরাখন্ডের হরিদ্বারে কারফিউ জারি হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনার শক্তিশালী ধরণটি বিশ্বের ১৭টি দেশে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ভারতের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্রাজিলেও বেড়েই চলেছে করোনা রোগী ও মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় বিশ্বে একদিনে মারা গেছে ১৪ হাজার ৮ শোর বেশি মানুষ। নতুন শনাক্ত হয়েছে আট লাখ চব্বিশ হাজারেরও বেশি।ব্রাজিলে একদিনে তিন হাজার একশোর বেশি জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত ৭৬ হাজার। প্রেসিডেন্ট বলসনারো সরকারের করোনা অব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ব্রাজিলের সিনেট।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যারা ভ্যাকসিন নিয়েছে তাদের জনসমাগম জায়গা ছাড়া মাস্ক পড়ার দরকার নেই। নেদারল্যান্ডসে লকডাউনের বিপক্ষে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে শতাধিক মানুষ।
পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পর্তুগালে মে থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে লকডাউন। এদিকে লকডাউন দেয়া সত্ত্বেও ফ্রান্সে সাউথ আফ্রিকা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



















