বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ে আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২১ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে র‍্যালি শেষে বিশ^বিদ্যালয় পরিবারের সকলকে নিয়ে মাননীয় ট্রেজারার ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অত:পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। এরপর ছাত্রলীগ কুবি শাখাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাস্কৃতিক সংগঠনসমূহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন।

পুষ্পার্ঘ অর্পণ শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির পাদদেশের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা, মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান সারথি ও অগ্নিপুরুষ, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী, স্বৈরশাসক অগণতান্ত্রিক পন্থায় আামদের এ দেশের বুদ্ধিজীবীসহ যাঁরা প্রতিভাবান ছিলেন তাঁদেরকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল।

স্বৈরশাসক বুঝতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে বাংলার জনগণকে চূড়ান্ত পর্যায়ের ডাক দিয়েছিলেন। বাংলার জনগণ আর পিছনে ফিরে যাবে না। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিড়ে পড়েছিল। ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে, ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানীর মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতার স্থপতি হলেন মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর কল্পনা, তাঁর ইচ্ছা, দেশের প্রতি প্রতিশ্রæতি, বাংলার জনগণের প্রতি ভালবাসা সবকিছু মিলিয়েই তিনি স্বাধীনতার স্থপতি হয়েছেন। আমাদের এই চেতনা বুকে ধারণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন দৃঢ়তার সাথে, অত্যন্ত দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে এই বাংলার সকল জনগণকে একত্র করে মানুষের কল্যাণ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মানে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোঃ শামিমুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম। আজ সুর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রশাসনিক ভবন ও আবাসিক হলসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং সন্ধ্যায় প্রশাসনিক ভবন, সামনের বাউন্ডারি ও উপাচার্য মহোদয়ের বাংলো আলোক সজ্জিতকরণ, সকাল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষন ও দেশাত্ববোধক গান প্রচার এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরনের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠান শেষে কুমিল্লা পাঁচথুবী ইউনিয়নের ইটাল্লা গ্রামে পুকুর খনন করে প্রত্নতত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুর্শেদ রায়হান কর্তৃক উদ্ধারকৃত প্রাচীন কাঠের স্তম্ভ পরিদর্শন করেন মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান। সাথে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

ক্যাম্পাস ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে