মাদারীপুরের শহীদুল ইসলাম। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন ৮ বছর। ৯ বছর আগে প্রতারিত হয়ে, নিজেই খুলে বসেন রয়েল চিটিং ডিপার্টমেন্ট–আরসিডি। টার্গেট- অবসরে যাওয়া পদস্থ কর্মকর্তারা। তাদের বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি নামে পাতে প্রতারণার ফাঁদ। আর তাতে পা দিলেই কখনও ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন, কখনো বসানো হয় জুয়া আসরে। আর এভাবেই হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। সম্প্রতি এ চক্রের ৫ সদস্যকে ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তারের পর, এসব তথ্য দিচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ।
বাংলাদেশ কর্মচারি কল্যাণ বোর্ডের সাবেক পরিচালক সৈয়দ মাহবুব-ই-জামিল। ২০১৮ সালে অবসরের পর খুঁজছিলেন চাকরি। জানুয়ারিতে প্রকৌশলী মাসুদ পরিচয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পান ৪ হাজার ডলার বেতনে চাকরির প্রস্তাব।পরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক বাসায়, তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় হিন্দি-ইংরেজির মিশেলে কথা বলা এক এক মাড়োয়ারি ব্যক্তির সঙ্গে। নিজেকে বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে জামিলের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় ৫৬ লাখ টাকা।
একই কৌশলে চাকরি দেয়ার নামে ডাকা হয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীকে, তা খোয়া গেছে সাড়ে চৌষট্টি লাখ টাকা। নৌবাহিনীর সাবেক কমান্ডার মানোয়ারুল ইসলামকে ৫ লাখ টাকা বেতনের চাকরির ফাঁদে ফেলে বসানো হয় জুয়ার টেবিলে, তিনি হারিয়েছেন ১৪ লাখ।এসব ঘটনায় একের পর এক অভিযোগ-মামলার পর অনুসন্ধান নামে ডিএমপির গুলশান বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশ। সন্ধান মেলে আরসিডি চক্রের। অভিযানে গ্রেপ্তার হয় এর ৫ সদস্য। উদ্ধার হয় প্রতারণার ৮০ লাখ টাকা।
প্রকৌশলী মাসুদ পরিচয়ে প্রতারণা করছিলেন এ চক্রের প্রধান শহীদুল ইসলাম। ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত ছিলেন মাদারীপুরের ঘটমাঝি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। পদ হারানোর পর প্রতারণার শিকার হয়ে নিজেই খেলেন রয়েল চিটিং ডিপার্টমেন্ট–আরসিডি নামে প্রতিষ্ঠান।
পুলিশ বলছে, তারা বাসা-অফিস ভাড়া নিত ডিওএইচএস, বসুন্ধরা, নিকেতনের মতো অভিজাত এলাকায়। নিজেদের বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বিদেশ উচ্চ বেতনে চাকরি ও ব্যবসায় বিনিয়োগে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা পাইয়ে দেয়াসহ দিতেন নানা প্রলোভন। এক বাসায় এক মাসের বেশি থাকতো না বলে প্রতারণার পর তাদের খোঁজ মিলতো না।চক্রের সদস্যরা প্রতারণার টাকায় চলাফেরা করতো দামি গাড়িতে। নিয়মিত পার্টি চলতো পাঁচতারকা হোটেলে।
অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ



























