ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে অনলাইনে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। ইউল্যাব সংস্কৃতি সংসদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। তারপর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।মূল অনুষ্ঠানের সূচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক এইচ এম জহিরুল হক । তারপর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের উপর নির্মিত এক বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশ বরেণ্য শিক্ষাবিদ জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পাকিস্তান কিন্তু কেবল যুদ্ধের শেষ দিকে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল তা নয়, তারা বুদ্ধিজীবী হত্যার মাধ্যমে কিন্তু বাঙালি নিধন অভিযান শুরু করেছিল। পঁচিশে মার্চের রাতে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী তাদের আক্রমণ শুরু করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীলক্ষেত আবাসিক এলাকা, জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল, বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব, বাংলা একাডেমি, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত শিব মন্দির, রমনা মাঠে অবস্থিত দুটি কালী মন্দির, শহীদ মিনার আর ঢাকা হলের আবাসিক এলাকা আক্রমণের মধ্য দিয়ে। এছাড়াও তারা কয়েকটি সংবাদপত্র অফিসে হানা দেয়। তারা যেখানে হানা দিয়েছে হত্যা এবং ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। বস্তুতপক্ষে তারা যে বাঙালি নিধন যজ্ঞ শুরু করেছিল তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমণের মধ্য দিয়ে। পাশাপাশি তারা রাজারবাগ পুলিশ স্টেশনে আক্রমণ করেছিল কারণ সেখানকার পুলিশ বাঙালি ছিলেন। এভাবে নিরীহ বাঙ্গালীদের উপর পাকিস্তানিদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ এবং তাদের দোসরদের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতনের কাহিনী বর্ণনা করেন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষী জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান শেষে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন ইউল্যাবের উপ–উপাচার্য অধ্যাপক সামসাদ মুর্তজা। তিনি বলেন এই ইতিহাস প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে ধারন করে রাখা ইউল্যাবের একটি দায়ীত্বের মধ্যে পড়ে কারন আমাদের অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের মত বিশেষজ্ঞ আছেন, এবং আমাদের অবস্থান রায়েরবাজার বদ্ধভুমির খুব কাছে।
ক্যাম্পাস ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ



























