ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। আমরা বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে পারেনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য যদি রক্ষা করতে না পারি তাহলে আমাদের স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িকতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে আর কিছুই থাকবেনা। তাই ভাস্কর্য রক্ষা করতে না পারলে আমাদের বেঁচে থেকে লাভ কি? মরে যাওয়ায় ভাল। তিনি বলেন, সময় এসেছে ৭১’র ন্যায় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শক্তিকে এক এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। ভিসি বলেন, আসুন সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলে স্বাধীনতা বিরোধীদের এদেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করি।
সাম্প্রদায়িক জঙ্গী গোষ্ঠী কর্তৃক কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাংচুর ও দেশব্যাপী তাদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোমবার বেলা ১১ টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের আয়োজনে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব চত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে ভাইস চ্যান্সেলর ড. শেখ আবদুস সালাম এসব কথা বলেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুল আরফিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তৃতাকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, ধর্ম প্রচারে এবং প্রসারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন ধর্মভীরু মানুষ। তিনি বলেন, জাতির পিতার ভাস্কর্যে আঘাত করা মানে আমাদের বুঁকে আঘাত করা। এ আঘাত কোন ভাবেই মেনে নেয়া হবে না। সভায় বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর টাইমস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এইচ এম আক্তারুল ইসলাম জিল্লু। সভা চলাকালে টেলি কনফারেন্সে বক্তৃতাকালে কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. এস এ মালেক বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা বিজয়ের মাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুর করে যে সাহস দেখিয়েছে তা ভাবতে অবাক লাগে। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার করা কিন্তু আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে অপশক্তিকে উৎখাত করা। আসুন সবাই এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই।
অপর বক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বাসসের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করছে একটি গোষ্ঠী। তিনি বলেন, ঘটনা স্থলে যারা ছিল শুধু তাদেরকেই গ্রেফতার নয়, নেপথ্যের মানুষদেরকেও গ্রেফতার করতে হবে। টেলি কনফারেন্সে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান লাল্টু। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. শাহজাহান মন্ডল, ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম-সম্পাদক প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক স্বপন, যুগ্ম-সম্পাদক ও ইবি কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর মোঃ মোর্শেদুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক দেওয়ান টিপু সুলতান, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সাজ্জাদ হোসেন, সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম, ইবি কর্মকর্তা সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ গোলাম আযম বিশ্বাস পলাশ, সাধারণ কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ আতিয়ার রহমান, টেকনিক্যাল সহায়ক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জেল হোসেন (লাল), ইবি ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত ও শিশির ইসলাম (বাবু)।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























