চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় একটি পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ব্যবসায়ী পরিবারে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. হাসান মুরাদের ছেলে মাহির হাসান গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হালিশহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হালিশহরের এম.আর স্টেশনারিতে গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। পরিবারের অভিযোগ, পূর্ববিরোধ এবং চলমান মামলা প্রত্যাহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত খালেদ মোহাম্মদ শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী হাসান মুরাদের মেয়েকে ধর্ষণ এবং তাঁর ছেলে মাহির হাসানকে অপহরণের অভিযোগে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে পরিবারটিকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি তাদের। হাসান মুরাদ এর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় গতকাল রাতে অভিযুক্ত শাহরিয়ারসহ একদল লোক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে হাসান মুরাদকে গালাগাল ও মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মাহির হাসানকে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
হামলাকারীরা পরে দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি। যাওয়ার সময় মামলা প্রত্যাহার না করলে পুরো পরিবারকে গুরুতর পরিণতির হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আহত মাহির হাসান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাবা হাসান মুরাদ এ ঘটনায় হালিশহর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ব্যবসায়ী হাসান মুরাদের স্ত্রী রওশন আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন ও ছেলেকে অপহরণের মামলা প্রত্যাহারের জন্য আমাদের নিয়মিত চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমরা রাজি না হওয়ায় দোকানে ঢুকে আমার স্বামীকে মারার চেষ্টা করা হয়েছে এবং আমার ছেলেকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আমরা এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে খালেদ মোহাম্মদ শাহরিয়ারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হালিশহর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে দায়ের করা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোপূর্বে বেশ কয়েকটা মামলা বিচারাধীন রয়েছে অভিযুক্ত খালেদ মোহাম্মদ শাহারিয়ার বিরুদ্ধে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘প্রভাবশালী মহলের কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সময় কথা বলতে ভয় পায়। আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়া হোক।’ ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
