নারায়ণগঞ্জে মৃত স্কুলছাত্রীর জীবিত ফেরার ঘটনায় মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। তাদের ১৭’ই সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির থাকতে বৃহস্পতিবার বলে এ আদেশ দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ। এদিকে, একই মামলায় গ্রেপ্তারের পর সেই কিশোরীর স্বামী ইকবাল পন্ডিতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে চেয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে ৩১’শে আগস্ট।

নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের বাসা থেকে গত ৪ জুলাই বেরিয়ে নিখোঁজ হয় ১৫ বছরের এক কিশোরী। পরিবার মামলা করলে এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে সে কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যায় ভাসিয়ে দেয়ার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় তারা। তবে এর ৪৯’দিন পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের বিয়ের কথা জানায় সেই কিশোরী। এতে অভিযোগ ওঠে, জিজ্ঞাসাবাদে মারধর না করার কথা বলে গ্রেপ্তার তিনজনের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে শামীমকে সরিয়ে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় আব্দুল হাইকে। মঙ্গলবার এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিভিশনাল মামলা করেন সুপ্রিমকোর্টের পাঁচ আইনজীবী। এতে কিশোরীর বাবার করা মামলায় আসামি গ্রেপ্তার ও তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ অপহরণ মামলার বৈধতার প্রশ্ন তোলা হয়।

বৃহস্পতিবার শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিভাবে এ ধরণের জবানবন্দি নেয় সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। এ মামলার যৌক্তিকতা হিসেবে তিনি ভারতের হাইকোর্ট ও সর্বোচ্চ আদালতের কয়েকটি রায় তুলে ধরেন। পরে আদালত দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন। এই মামলায় আসামি করা হয়েছে ওই কিশোরীর স্বামী ইকবাল পন্ডিতকেও। দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট কাউসার আলমের আদালতে তাকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ, এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে ৩১ আগস্ট। সেই অন্য ৩ আসামিকেও আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে। এদিকে সেই ৩ আসামির স্বজনরা তাদের মুক্তির দাবিতে নারায়নগঞ্জের আদালত চত্বরে মানববন্ধন করেছে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে