রাখাইন রাজ্য ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আনান কমিশনের প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানালো মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানান জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্তের প্রস্তাব রেখে প্রতিবেদন প্রকাশ করে রাখাইন রাজ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিশন।

রাখাইনে সেনাবাহিনীর নির্বিচার হামলার শিকার রোহিঙ্গারা- এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েক দফা রাজ্যটিতে তদন্ত করেন সুচি প্রশাসনের নিয়োগ দেয়া কফি আনান কমিশন। শেষবার ২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর মংডু এলাকা সফর করেন  কফি আনান। তার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পরামর্শক কমিশন। যাতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাসহ রাখাইনের সব জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব নিশ্চিতে পরিচয় যাচাইয়ের একটি স্বচ্ছ এবং সমন্বিত প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। একইসাথে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সুচি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায় কমিশন। পাশাপাশি দু’দেশের সর্ম্পকোন্নয়নে একটি যৌথ কমিশন গঠনের সুপারিশ জানানো হয়।

রাখাইন বিষয়ক কমিশনের প্রধান কফি আনান বলেন- ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে কমিশনের প্রস্তাব, মানবাধিকার বিবেচনায় সংবাদকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার দেয়া উচিৎ রাখাইনে। একইসাথে ৯ অক্টোবর যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং এর পরবর্তী যেসব অত্যাচার-নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে; সেসব তদন্তের আওতায় আনা হোক। আর বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন সুচি প্রশাসন- এটাই আমাদের সুপারিশ।

মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও; আনান কমিশনের এসব প্রস্তাবনা শিগগিরই বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক পরিচালক চম্পা প্যাটেল বলেন- ‘আনান কমিশনের প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে তারচেয়েও খারাপ অবস্থা রাখাইনে। তাদের উত্থাপিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে খুবই কমই সুবিধা ভোগ করবেন রোহিঙ্গারা। তবুও বলছি মুসলিম এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকে স্বাধীনতা দিন। তারা যেনো রাখাইনের বাইরে যেয়ে শিক্ষা গ্রহণ বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন’।

গতবছর ৯ অক্টোবরে রাখাইনের মংডু এলাকায় পুলিশ হত্যাকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। জাতিসংঘের হিসাবে এতে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১০০ মানুষ। আর বাংলাদেশেই আশ্রয় নিয়েছেন ৬৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে