ইউরোপে মানবপাচারে জড়িত একটি বিশাল সিন্ডিকেট। এরা ছড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায়। লোক জোগাড় করে লিবিয়া পাঠানো, সেখান থেকে ইতালি। পরে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করা। এই পুরো চেইন নিয়ন্ত্রণ করছে ৫টি চক্র। তাদের হয়ে বাংলাদেশে কাজ করছে ৪০ দালাল এবং লিবিয়ায় আছে অন্তত ৩০ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

অবৈধভাবে ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেন যেতে গিয়ে প্রায়ই প্রাণ হারাচ্ছে বাংলাদেশিরা। প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লিবিয়ায়। সেখান থেকে সাগরপথে পাঠানো হচ্ছে ইতালি ও ইউরোপের অন্য দেশে। এই হতভাগ্য মানুষগুলোকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করছে ৪০ থেকে ৪৫ দালাল। তারাই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাঠাচ্ছে লিবিয়ায়।

লিবিয়ায় তাদের বুঝে নিচ্ছেন ৫ বাংলাদেশি দালাল। এরা হলেন, নোয়াখালীর কাজী ইসমাইল আলম, সিলেটের আশরাফুল, কুমিল্লার শরিফ, মাদারিপুরের কামাল ও চট্টগ্রামের মুসলিম। এদের দায়িত্ব ক্যাম্পে পৌঁছে দেয়া এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া এবং দেশে যোগাযোগের মাধ্যমে টাকা আদায় করা।

লিবিয়ায় এরকম অর্ধশতাধিক ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পের বাংলাদেশি মালিকরা হলেন, আশরাফ, কাজি ইসমাইল, বাদশা, কামাল, সেলিম, রুবেল, আব্দুল্লাহ, জসিম, সোহাগ ও দাদা। পাচার হওয়াদের বেনগাজি থেকে ত্রিপলি বা ইতালিতে পৌঁছানোর দায়িত্বও এদের।

বেনগাজি থেকে আজদারিয়া, সিরত, ত্রিপলি হয়ে জোয়ারাঘাটে নেয়া হয় ইতালি প্রত্যাশীদের। যেখান থেকে নৌকায় ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু। ভাসতে ভাসতে যারা গন্তব্যে পৌঁছবে জয়ী তারাই। এই প্রক্রিয়াকে দালালদের ভাসায় বলা হয় গ্যামিং। আর এটি নিয়ন্ত্রণ করছে রুবেল, ডেবিট, মমিন, মনির, আতিয়ার, পলাশ, নুরু, পারভেজ ও বাদশা।

২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত অবৈধভাবে ইউরোপ পাড়ি জমিয়ে নিখোঁজ ও মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশির। আর ২০০৯ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউরোপে ঢুকতে গিয়ে আটক হয়েছে ৪০ হাজারেরও বেশি।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে