কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া প্রতিনিধি|| কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউপি’র রাতুলপাড়া গ্রামের ক্যানেল পাড়ার আসলামের ১১’বছরের নাবালিকা কণ্যা ধর্ষিত হয়েছে। উক্ত মেয়ে ৪র্থ শ্রেণীতে পড়াশোনা করত, কিন্ত তারই আপন খালাতো ভাই মাছুদ ও তার বন্ধু সুজনের লালসার স্বীকার হয় উক্ত মেয়েটি। রাতুলপাড়ার রুস্তুম মার্কেটের পিছনে ক্যানের পাড়ার বাসিন্দা আবু তালেব সাধুর ছেলে মাছুদ ও তালেব সাধুর ভক্ত পান্টি এলাকার বাসিন্দা সুজন প্রায় ৬ মাস ধরে এই মেয়েটিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভিতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে আসছিল। তাদের ভয়ে মেয়েটি তার পিতা মাতার কাছে কখনো বলতে সাহস পায় নাই বলে মেয়েটি আজ প্রতিবেদকের কাছে বলেন।

আসলামের স্ত্রী শিউলি জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমার আপন বোন ও তার স্বামী আবু তালেব এবং ছেলে মাছুদ প্রায় প্রতিদিনই মেয়েকে দিনের বেলাতে ডেকে নিয়ে যেত তার বাড়ীতে বিভিন্ন কাজ কর্মের অজুহাত দেখিয়ে। তখন আমি কিছুই বুঝতে পারি নাই যে আমার বোন আমার মেয়েকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করাচ্ছে, বুঝতে পারলাম গত ৫দিন আগে। কারণ গত ৪ দিন আগে সন্ধ্যার পর আমার বোনের ছেলে মাছুদ বাড়ীতে এসে বলে মা পাঠিয়েছে আজ ভাল রান্না হয়েছে ওকে খাওয়াবে তাই নিতে এসেছি এবং রাতে আমাদের ওখানে খাকবে। আমি না করি নাই কারণ আমার বোনের কোন মেয়ে নেই শুধু একটি মাত্র ছেলে মাছুদই আছে। পরদিন সকালে এসে মেয়ে আমাকে সব খুলে বলেলে আমি বিচারের আশায় দারে দারে ঘুরছি কেউ আমার বিচার করে দিচ্ছেনা বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে আসলামের নাবালিকা মেয়ের সাথে সরাসরি কথা বললে তিনি বলেন, আমাকে প্রায় ৬ মাস ধরে কখনো খালু তালেব, কখনো, মাছুদ কখনো খালা এসে দিনের বেলাতে আমাকে তাদের বাড়ীতে ডেকে নিয়ে যেত। খালার বাড়ীতে আসা পান্টি এলাকার সুজন ও মাছুদ আমাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করতো। কিন্তু তার আগে আমাকে বিভিন্ন বড়ি খাওয়ায়ে দিত এ বিষয়ে আমি কিছুই বুঝতাম না। কিন্ত গত চার দিন আগে রাতে ডেকে নিয়ে গিয়ে আমাকে বড়ি খাওয়ায়ে রাতভর সুজন ও মাছুদ একাধিকবার ধর্ষণ করলে আমার শরীর খারাপ হওয়ায় সকালে খালার বাড়ী থেকে চলে এসে আমার মাকে সব খুলে বলি। তাদের বাড়ী আধা কিলো মত হবে। মেয়ে এটাও বলে আমার খালু আবু তালেবও আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিল ঐ কাজটা করার জন্য, কিন্ত আমি রাজি হয় নাই। এ বিষয়টি নিয়ে উক্ত এলাকাতে গুঞ্জন চলছিল কিন্তু কেউ তা প্রকাশ করে নাই আজ কয়েকদিন হল তা প্রকাশ হয়েছে বলে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি জানান।

নাবালিকা মেয়ে ধর্ষনের বিষয়ে আবু তালেবকে ফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি স্বীকার করেন এবং এটাও বলেন এ বিষয়ে লিখলেখি না করার জন্য। এই আবু তালেব যে একজন অসৎ চরিত্রের ব্যক্তি তা এলাকাবাসী সকলেই জানেন। তিনি সাধু ছদ্দবেশ ধরে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে করে যাচ্ছেন সাধু সেবার মাধ্যমে। তার কাছে বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন আসত শুধু মেয়েলি ব্যবসার অর্থ কামানোর জন্য। এছাড়াও বালিয়াপাড়া, রাতুলপাড়া ও ভবানীপুরের কিছু গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নামও উঠে এসেছে এই মেয়েলি ব্যবসায়ের সাথে তারা জড়িত। আবু তালেবের কাছে যাওয়ার একটাই কারণ কচি ডাবের পানি খাওয়া। ঐ কচি ডাবের পানি ছিল ভূক্তভোগী ঐ মেয়েটি।

এই বিষয়ে ভূক্তভোগী মেয়ের মা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, আবু তালেব, ও তার স্ত্রী ধর্ষণকারী ছেলে মাছুদ ও সুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানান।

কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে