কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়ার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন উক্ত এলাকায় আদম ব্যবসায়ী ও দালাল নামে পরিচিত। বিদেশে লোক পাচারের খপ্পরে পড়ে উক্ত এলাকার বাসিন্দারা তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সহায় সম্বল বিক্রি করে আজ তারা নিঃস্ব। সমুদ্রপথে বিদেশ পাঠানো অনেকেই নিখোঁজ। নিখোঁজ সন্তানদের জন্য ছেলে হারানো মায়ের বুকফাটা কান্নায় ভারি হয়ে আকাশ বাতাস। বিদেশে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়া মানুষের বেড়েছে দুঃখ-দুর্দশা।

বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর নাম করে চেয়ারম্যান মিলন নিজ হাতে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এভাবে দুবাই, ইরাক ও মালয়েশিয়া পাঠানোর নাম করে উক্ত ইউনিয়ন বাসীর শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেয় আমবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন, কিন্তু পরবর্তীতে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হয় উক্ত চেয়ারম্যান। সরজমিনে উপকৃত এলাকায় এ সক‌ল পরিবারের কাছে তথ্য জানতে গেলে, বিদেশে সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে বিপদে পড়া আমবাড়ীয়া গ্রামের মানুষের মুখে শোনা যায় দুঃখ-কষ্টের নানান কথা। উল্লেখিত গ্রামের দাউদ হোসেন প্রতিবেদককে জানান, আমার ছেলে রিপন (২৯)একাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করতো।

চেয়ারম্যান আমাকে বলে ছেলেকে লেখাপড়া করে কি করাবি তার চেয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দে, চেয়ারম্যানের কথা শুনে আমি ও আমার পরিবার রাজি হলে চেয়ারম্যান মিলন নিজে ২০১১ সালে ইরাকে পাঠানোর কথা বলে ৩৫৫০০০/= টাকা, গ্রহণ করে এবং বলে ২ মাসের মধ্যে বিদেশে পাঠিয়ে দিব। এভাবে পর্যায়ক্রমে চেয়ারম্যান মিলন ‌উক্ত এলাকার রবজেল এর ছেলে রবিউল ইসলামের কাছ থেকে ৩৫০০০০/ টাকা নেয়, আতিয়ারের ছেলে আলিমের কাছ থেকে ২৫০০০০/ টাকা নেয়, সাত্তারের ছেলে বাদলকে ইরাকে পাঠানোর জন্য ৩৮০০০০/টাকা গ্রহণ করে চেয়ারম্যান। এছাড়াও রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৪০০০০০/ টাকা নেয়, মুলুক চাঁদ মহিবুলের দুলা ভাইয়ের কাছ থেকে ৩০০০০০/টাকা নেয়, আব্দুল সাত্তারের কাছ থেকে ৩৭০০০০/টাকা নেয়, মমিনের কাছ থেকে ২৭০০০০/ টাকা নেয়, বকুলের কাছ থেকে নেয় ৩৮০০০০/ টাকা নেয়, আলমগীরের কাছ থেকে ৩৮০০০০/ টাকা নেয়, আক্তারুলের কাছ থেকে ৩৮০০০০/ টাকা নেয়, বাচ্ছুর কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা নেয়, রুস্তম আলীর কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা নেয়। এভাবে আমবাড়িয়া এলাকার স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা নিয়েছে চেয়ারম্যান মিলন। এ বিষয়ে আমবাড়িয়া গ্রামের একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, এই আদম ব্যবসায়ী মিলন চেয়ারম্যান অত্র এলাকায় আদম নামে খ্যাত। চেয়ারম্যান মিলন বিদেশে চাকরি দেয়ার নাম করে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বিদেশে পাঠানোর নাম করে তাদেরকে সর্বস্বান্ত করে আসছে।

ওই সকল ব্যাক্তি টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদেরকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেয়, এই ভয়ে কোন ব্যাক্তি কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। চলতি মাসের ৫ তারিখে রিপন ও তার মা চেয়ারম্যানের কাছে টাকা চাইতে গেলে তাদেরকে মারধর করে এবং বলে তোকে টাকা দিবো না বেশি কথা বললে বাঁচতে পারবিনা । বর্তমান চেয়ারম্যান দাপটের সাথে এই অন্যায় কাজগুলো করে আসলেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না এলাকাবাসী। এবিষয়ে চেয়ারম্যান মিলনের মুঠোফোনে কথা হলে, তিনি প্রতিবেদককে বলেন আমার কাছে বিদেশ যাওয়ার জন্য কিছু লোক টাকা দিয়েছিল এটা ঠিক, তবে আমি টাকা ফেরত দিবো। আর রিপনের মাকে আমি ডেকেছিলাম তার নামে ভিজিএফের কার্ডের চাউল পেতো ভুল করে ওএমএসের কার্ড হয়েছে এটা ঠিক করার জন্য আসতে বলি কিন্তু রিপন তার মায়ের সাথে এসে টাকা চাচ্ছিল তখন আমি বলি তোকে জুন মাসের মধ্যে টাকা দিব।

তখন রিপন বলে, আপনি শুধু সময় নেন কিন্তু টাকা দেন না, এই কথা বলার সাথে সাথে আমি রাগান্বিত হয়ে উঠি ফলে দুইজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় তখন আমি আমার পায়ের জুতা খুলে তাকে মারি। তিনি আরও বলেন এ পর্যন্ত প্রায় তিনশ জনকে বিদেশে পাঠিয়েছি এবং তিনি এটাও প্রতিবেদককে বলেন, আমি একসময় ইউনিপেটুর সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলাম ওই সময় আমি ইচ্ছে করলে অনেক টাকার মালিক হতাম কিন্তু আমি সেটা করি নাই তবে প্রত্যক্ষ ভাবে সহযোগিতা করেছি। সহযোগিতা করেছি ভুক্তভোগীরা প্রতিবেদককে জানান চেয়ারম্যান মিলন এভাবে সকলের সাথে এ ধরনের খারাপ আচরণ ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আর সে বলে তারা জানান কারণ এই চেয়ারম্যান একজন অস্ত্রধারী ক্যাডার বলে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত সে কারণে তার কাছে সহজে কেউ যেতে পারে না টাকাও চাইতে পারে না নিরবে ঐসকল পরিবারগুলো ধুকে ধুকে মরছে টাকার অভাবে।

তারা এটাও বলেন, আমরা জায়গা জমি বিক্রি করে চেয়ারম্যান মিলনের হাতে টাকা তুলে দিয়েছি বিদেশ যাওয়ার জন্য অথচ আজ পর্যন্ত একজন ব্যক্তিকেও তিনি বিদেশে পাঠাতে পারেন নাই। অথচ উক্ত প্রদানকৃত অর্থ আমাদেরকে ফেরত না দিয়ে বারংবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে ঐসকল ভুক্তভোগীরা মাননীয় জেলা প্রসাশক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আদম ব্যবসায়ী ও দালাল চেয়ারম্যান মিলনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা সহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

কে এম শাহীন রেজা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে