আবারো ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন সারেগামাপা খ্যাত নোবেল দেশের সংগীতের কিংবদন্তিদের নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য আবারো বিতর্কে জড়ালেন সারেগামাপা থেকে জনপ্রিয়তা পাওয়া বাংলাদেশের নোবেল।
নিজের ফেসবুক পেজে নোবেল বলেছেন, ‘লিজেন্ডদের আমি শেখাব কীভাবে ২০২০ সালে মিউজিক করতে হয়!’ নোবেলের এ ধরনের কথা শুনে দেশের সংগীতাঙ্গনের গুণীসংশ্লিষ্টরা অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। নোবেলের মুখ থেকে এমন কথা শুনে শুরুতে কেউ বিশ্বাস করতে চাননি। ভেবেছিলেন, হয়তো ফেসবুক পেজ হ্যাক হয়েছে সেজন্যই হ্যাকার লিজেন্ডদের নিয়ে এভাবে লিখেছেন নোবেলের বদনাম করার জন্য।
তবে, পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ফেসবুক লাইভে এসে নোবেল সবাইকে নিশ্চিত করেন যে তিনি নিজেই জেনে-বুঝে এ ধরনের পোস্ট দিয়েছেন। ফেসবুক লাইভে নোবেল যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেছেন, তিনি জেনে–বুঝে পোস্টটি দিয়েছেন। লাইভে তিনি বলেছেন, ‘অ্যা ভাই, কী শুনলাম আমি। পেজ নাকি হ্যাক হইছে। কই পেজ তো হ্যাক হয়নি। আমি তো নোবেল’।

বিষয়টি নিয়ে দেশের গুণী সংগীতশিল্পী ও সংগীতপরিচালক কুমার বিশ্বজিত বলেন, ‘এমন কথা হতাশা থেকে বলে। তাই বলতে পারি, এটা হতাশা এবং পাগলের প্রলাপ। যার নিজেরই কোনো সৃষ্টি নাই, অন্যের সৃষ্টি দিয়ে গানের জগতে হাঁটতে শুরু করেছে, তাদেরই ইগনোর করা ঔদ্ধত্যপূর্ণ। এমন কাজ পাগলেই শুধু করতে পারে।’ এছাড়াও সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক শওকত আলী ইমন বলেন, ‘এখনো যার কোনো নিজের গানই তৈরি হয়নি, যে দেশের শিল্পীদের গান গেয়ে ভারতে গিয়ে পরিচিতি পেয়েছে, সে এমন কথা বলার সাহস কোথায় পেল, এটা অবিশ্বাস্য। এই সময়ের সঙ্গে মিল রেখে আমি বলব, ও সংগীতাঙ্গনের নতুন করোনাভাইরাস। এই ধরনের ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে হয়। ওর আসলে মানসিক চিকিৎসা দরকার। গান করার আগে, ওর সুস্থতাটা বেশি জরুরি। কারণ পাগল ছাড়া এই ধরনের কথা কেউ বলতে পারে না। আমরা দেখেছি, প্রথম থেকেই সে ঔদ্ধ্যত্যপূর্ণ কথা বলছে।
ভারতের জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো সারেগামাপা গ্র্যান্ড ফিনালের সময় নোবেল নিজের দেশের জাতীয় সংগীত বদল করার মতামত দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। সে সময় তিনি এ–ও বলেছিলেন, বাংলাদেশে তাঁর কাজ করার মতো কোনো সংগীত পরিচালক নেই। এমনকি তাঁর সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে গান গাওয়ার যোগ্যতা দেশের কোনো নারী শিল্পীরা রাখেন না।
এদিকে নোবেলের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ সংগীতাঙ্গনের তরুণ প্রজন্মের সবাই। ফেসবুকে তাঁদের অনেকে নিজেদের ক্ষোভের কথাও তুলে ধরেছেন। শাস্ত্রীয় সংগীতে দিল্লির গান্ধর্ব মহাবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, বাংলাদেশি শিল্পী সমরজিৎ রায় বলেন, ‘যাঁদের গান গেয়ে আমরা সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হই, তাঁদের নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত নয়।
ব্যক্তিগতভাবে দিল্লিতে গান শিখতে গিয়ে এটুকু বুঝেছি, মানুষ যতই সংগীতের গভীরে যায়, তাঁর আচরণ ততই উন্নত হয়। বিনম্র হয়। সে জায়গায় একজন তরুণ কয়েক বছর গান করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলা লিজেন্ডদের নিয়ে, এটা শিল্পী সমাজের জন্য কলঙ্ক।’ নোবেল শিগগিরই নতুন গান প্রকাশ করতে যাচ্ছেন, তাই হয়তো তিনি আলোচনায় থাকতে চান। তবে বিষয়টি নোবেল–ভক্তদের বা তার ফেসবুকের অনুসারী যাঁরা আছেন, তাঁরাও নোবেলের এমন কৌশল কিংবা লিজেন্ডদের নিয়ে কথা বলাটাকে স্বাভাবিকভাবে নেননি।
বিনোদন ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














