সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজান ধল গ্রামের বাউল রণেশ ঠাকুরের পাশ দাঁড়িয়েছে দিরাই উপজেলা প্রশাসন। দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে রণেশ ঠাকুরের পুড়ে যাওয়া গানের ঘর পুনঃনির্মাণ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সফি উল্লাহ।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় উজান ধল গ্রামে বাউল রণেশ ঠাকুরের বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।এসময় নগদ ২০ হাজার টাকা বাউল রণেশ ঠাকুরের হাতে তুলে দেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে রণেশের গানের ঘর পুনঃনির্মাণ করে দেয়া হবে। আগুনে ঘরে থাকা বাধ্যযন্ত্র পুড়ে যাওয়ায় বাদ্যযন্ত্রের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। দিরাই থানার এস আই জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি সরেজমিন গিয়ে দেখেছি বাউলের যন্ত্রপাতি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে রণেশ ঠাকুরকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি কাউকে সন্দেহ করেন কি না। তিনি সন্দেহপ্রবণ কারো নাম বলতে পারেননি। তবে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে রণেশ ঠাকুরের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সুনামগঞ্জের শিল্পীসমাজ নিন্দা জানিয়েছে। বাউল রণেশ ঠাকুরের গানেরঘর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সুনামগঞ্জের সংস্কৃতিকর্মীরা। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে দোষীদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। দেশ বিদেশেরর বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত বাউল রণেশ ঠাকুরের ভক্তরাও প্রতিবাদ করেছেন।

সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির কার্যনির্বাহী সদস্য বিজন সেনরায় বলেন, বাউল রণেশ ঠাকুর সুনামগঞ্জ জেলার বিখ্যাত প্রকৃত একজন বাউল। তিনি বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের অন্যতম প্রধান শিষ্য যারা তার গানের ঘর ও মুল্যবান জিনিষপত্র পুড়িয়ে দিয়েছে তাদের বিচার চাই। এর আগে গত রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে বাউল রণেশ ঠাকুরের গানের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে