ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুরঃ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার ওসির নামে গুজবের সঙ্গে জড়িত ২জন আটক হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন মোঃ মামুন হোসেন রুবেল(২০) ও শাহাপরান আলম খান রাব্বি(২৫)।

ত্রাণ দেয়ার নামে ওসি এক তরুনীর সঙ্গে অনৈতিক কাজ করেছেন। ফেসবুকে এমন একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন তারা। স্ট্যাটাসটি কয়েক ঘন্টার মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। স্ট্যাটাসে ওসি, নারী ও নারীর বাবার নাম উল্লেখ করা হয়। আপলোড করা হয় ওসি ও কথিত নির্যাতিত নারীর ছবি। ফলে, এক শ্রেণির লোক গুজবটি লুফে নেয়। কয়েক ঘন্টার মধ্যে ওই স্ট্যাটাসটি প্রায় চার হাজার শেয়ার হয়। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পর বিডি টাইমস নিউজে ‘খবরটির কোনোরূপ সত্যতা পাওয়া যায়নি’ মর্মে একটি নিউজ হয়। এরপর প্রায় ১৫ ঘন্টার মধ্যে গুজবের সঙ্গে জড়িত দু’জন আটক হন। তারা এখন পুলিশ হেফাজতে আছেন।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪নং ফরিদগঞ্জ(দক্ষিণ) ইউনিয়নের পূর্ব পোঁয়া গ্রামের চৌকিদার বাড়ীর মোঃ বাবুল মিয়ার পুত্র মোঃ মামুন হোসেন রুবেল(২০) বুধবার (২৯’শে এপ্রিল) ভোর ৪’টা ৭’মিনিটে তার মোবাইল ফোনের ফেসবুকে “Jarine Afrine Ruma” নামের আইডি থেকে ব্রেকিং নিউজ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করে। যেখানে উল্লেখ করা হয়, “ত্রাণ দেওয়ার নাম করে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব ০৮নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের ০৩নং ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম(৫৬) চায়ের দোকানদারের মেয়ে সালমা(১৯) নামের এক তরুনীকে ধর্ষন করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং তার পদত্যাগ চাই”। রুবেল পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয় যে, “প্রকৃতপক্ষে উক্ত পোস্টের বিষয়ে কোনো ঘটনা ঘটে নাই। স্থানীয় শাহাপরান আলম খান রাব্বি (২৫), পিতা: মাহাবুব আলম খান, সাং- গজারিয়া (খান বাড়ী), থানা: ফরিদগঞ্জ, জেলা: চাঁদপুর এর প্ররোচনায় আমি প্ররোচিত হয়ে বর্ণিত মিথ্যা তথ্যটি আমার টাইমলাইনে পোস্ট করি।

প্রকৃতপক্ষে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব আব্দুর রকিব স্যার এমন কোন ঘটনার সাথে আদৌ জড়িত নয়। ফরিদগঞ্জ থানাধীন ০৮নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের ০৩নং ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম এবং তার মেয়ে সালমা নামক কাউকে আমি চিনি না এবং এই নামে কেউ আছে কিনা তা আমার জানা নাই। মূলত আমি ইন্টারনেট থেকে একটি অচেনা মেয়ের ছবি ডাউনলোড করে ওসি ফরিদগঞ্জ থানা সাহেবের ছবিসহ আমি পোস্টটি তৈরি করি”।

বর্তমানে দেশে করোনা ভাইরাস মহামারির সময় ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ তথা বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী যে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে তা প্রশ্নবিদ্ধ করতে ও তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং গুজব রটানোর উদ্দেশ্যে আমি– শাহাপরান আলম খান রাব্বি’র উদ্দেশ্যেমূলক প্ররোচনায় “Jarine Afrine Ruma” নামক ফেইসবুক আইডি হতে বর্নিত পোস্ট করি। আমি আমার এই ভুলের জন্য লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। তাদের নামে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে, আটককৃতদের খুঁটি রয়েছে বেশ গভীরে। এমন অভিমত ব্যক্ত করে এলাকাবাসী বলেছেন, তাদের আটক করা না হলে নাটের গুরুরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। এমন আরও অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকবে।

বিডি টাইমস নিউজের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোনো যাচাই বাছাই ছাড়াই প্রায় আড়াই হাজার রিয়্যাক্ট, আড়াই হাজার কমেন্ট ও প্রায় চার হাজার শেয়ার হয় স্ট্যাটাসটি। খবরের সত্যতা জানার জন্য বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এলাকায় ঘুরে ও খোঁজ খবর নিয়ে অভিযোগের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী অভিযোগটিকে স্রেফ গুজব ও এটিকে অপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। করোনা মহামারি মোকাবেলার মধ্যে পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার ষড়যন্ত্র কী না- এমন প্রশ্নও উঠেছে।

ফেসবুকের ওই পোস্টে কথিত নির্যাতিত নারীর বাড়ি উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে। তার নাম সালমা (১৯) ও তার বাবার নাম রফিকুল ইসলাম (৫৬) এবং বাবা পেশায় একজন চা দোকানী উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্ট্যাটাসে ওসি’র ছবির সঙ্গে একজন নারীর ছবিও জুড়ে দেয়া হয়। কিন্তু, ফেসবুকে উল্লেখিত ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের উল্লেখিত নামের কোনো চা দোকানী, এমনকি সালমা (১৯). পিতা: রফিকুল ইসলাম নামের কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং ওই ছবির নারীকে কেউ কখনও দেথেননি বলে জানান। কথা হয় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার আলী হায়দার, চৌকিদার মিজানুর রহমান, একজন সর্বজন পরিচিত হারুন খানসহ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে। তারা এমন নাম ঠিকানার কাউকে চেনেন না বা এমন অভিযোগ কখনও শুনেননি বলে জানান। এছাড়া, এলাকায় ও আশেপাশে ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাহলে, এই অভিযোগের ভিত্তি কি।এমন প্রশ্নে নানান মন্তব্য পাওয়া গেছে। কেউ বলেছেন, এলাকার দলীয় কোনো কোন্দলের শিকার ওসি আব্দুর রকিব। তাকে দিয়ে কোঠারি স্বার্থ আদায় না করতে পেরে, তারা তাকে ফরিদগঞ্জ থেকে সরিয়ে দিতে চান। তার অংশ হিসেবে স্ট্যটাসে ওসি’র বদলি দাবী করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, করোনা মহামারিতে জীবন বাজি রেখে কাজ করা ফরিদগঞ্জ পুলিশ বাহিনীকে মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য এমন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা ও চক্রান্ত করা হয়েছে।

ফলে, চক্রান্তকারীরা বর্তমানে সহজ পথ- ‘ফেসবুক’কে বেছে নিয়েছে। এ ব্যপারে কথা হয় থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব এর সঙ্গে। তিনি বলেন, একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে রিলিজ পেলাম। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিলো। এই অপরাধী আটকের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ দেখেছেন। তাদেও নামে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়ি থাকলে অবশ্যই সকলেই আইনের আওতায় আসবে।

আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে