নারী স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নিজে জীবন রক্ষাকারী সেবা দিয়েছেন অসংখ্য রোগীকে। ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে অর্থনৈতিক কষ্টের পাশাপাশি এখন মানবেতর জীবনের মুখে। এক সপ্তাহ ধরে এই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

কমল বড়ুয়া এক লেখায় জানান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ইমপালস হাসপাতালে চাকরি করতেন এক নারী স্বাস্থ্যকর্মী (২১)। করোনা ভাইরাস জনিত কারণে ছুটি নিয়ে নিজবাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের লগন্ডা গ্রামে ফেরেন। বাড়ি ফেরার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এক নেতার নির্দেশে তার বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে একটি নির্জন পুকুর পাড়ে তালপাতা দিয়ে ঝুপড়িঘর তৈরি করে তাকে কোয়ারেন্টিনে রাখে।

ভুক্তভোগী ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, “এক সপ্তাহ ধরে আমি এখানে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মানবতার জীবনযাপন করছি। একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আমি অনেক মানুষকে স্বাস্থসেবা দিয়েছি। আর আজ আমাকে এখানে রেখে আমার স্বাস্থ্য হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। মানুষ যে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে তা আমার আগে জানা ছিল না।

অন্যদিকে ওই স্বাস্থ্যকর্মীর মা কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী নেই। এই মেয়েটার আয়ের উপরই আমার সংসার চলে। আমার মেয়ের এখনও বিয়ে হয়নি। তাকে এভাবে একটি পুকুর পাড়ে ঝুপড়িঘরে রাখা হয়েছে। আমার মেয়ের যদি কিছু হয়ে যায়, তা হলে এর দায় কে নেবে? হায় ! করোনা কি তবে মানুষকে জানোয়ারেও পরিণত করে ফেলছে!

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে