কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের পুরাতন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা মজনু ঘরামির ছেলে প্রতিবন্ধী জিয়া মিস্ত্রী (৩৫) নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ প্রতিবন্ধী জিয়ার মা প্রতিবেদকে বলেন, উক্ত এলাকার বাসিন্দা নিয়ামত মন্ডলের ছেলে ইশারত (৩২), আকবার ফকিরের বড় ছেলে লালন (৪২), ও আলম ওরফে আড়ং (৩৫), মৃত নজিম উদ্দিনের ছেলে খসরু ও মনি বিশ্বাসের ছেলে রফিক এরা ৫জন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় আমার ছেলেকে মোবাইলে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্র্তীতে জানতে পারি উপরোক্ত ব্যক্তিসহ আমার ছেলেকে নিয়ে ছোট একটি ডিঙি নৌকায় উঠে পদ্মা নদীর মধ্যে খানে মাছ ধরতে গেলে নৌকাডুবি হয়। মাঝ নদীতে নৌকা ডুুবির ঘটনা ঘটলে তাদের সকলের চিৎকারে আশে পাশের মাছ ধরার জেলেরা নৌকা নিয়ে ৫জনকে উদ্ধার করলেও নিখোঁজ হয় আমার ছেলে জিয়া। ঐদিন সারারাত ও পরদিন পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেও মেলেনি প্রতিবন্ধী জিয়ার খোঁজ। ঐ রাতেই কুষ্টিয়া মডেল থানাকে জানানো হলে তাৎক্ষণিক মডেল মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওখানকার স্থানীয় এলাকাবাসীর মনে একাধিক প্রশ্ন জেগেছে তারা প্রতিবেদককে বলেন, পদ্মা নদীতে যে ছোট ডিঙি নৌকা ডুবে গিয়েছিল তা হঠাৎ করে উদ্ধার হল কিভাবে ? উক্ত নৌকাটি নদীর কুলে ভেড়ানো রয়েছে তাতে ৬ জন ব্যক্তি কখনোই উঠতেই পারেনা। অপরদিকে নিখোঁজ জিয়ার জামা কাপড়ও নদীর কুলে পড়ে থাকতে দেখা গেছে, বাকী ৫ জনের জামা কাপড় সেখানে নেই। প্রতিবন্ধী জিয়ার পরিবার সহ এলাকাবাসী প্রতিবেদককে জানান পূর্ব শত্র“তার জের ধরে আলম ওরফে আড়ং তার সন্ত্রাসী বাহিনীদেরকে সাথে নিয়ে জিয়াকে নিখোঁজ বা হত্যা করে কোথাও পুঁতে রেখেছে বা নদীতে ভাষিয়ে দিয়েছে।
এলাবাসীরা আরও জানান আমরা অনেক খোঁজাখুজি করে জিয়ার কোন সন্ধান না পেয়ে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। তৎক্ষনাত ঘটনাস্থলে কুষ্টিয়া ফায়াস টিম আসে কিন্ত তাদের ডুবুরি না থাকায় খুলনা ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দলের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলী সাজ্জাদ ও আব্দুল মান্নান সরদার এর নেতৃত্বে আজ (সোমবার) সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত লাশ উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করেন। পরে লাশ উদ্ধারে কোন সন্ধান এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই।
জিয়ার মাতা প্রতিবেদককে আরও জানায়, পূর্বে থেকেই ঐ এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী আড়ংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল তারই জের ধরে আমার ছেলে জিয়াকে পরিকল্পিত ভাকে মাছ ধরার নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে নিখোঁজ করেছে তারা। উক্ত জায়গা জমি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ইতিপূর্বে এলাকায় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিরা বিচার শালিশ করেও তাতে কোন মিমাংসা হয় নাই। অন্যদিকে সন্ত্রাসী আড়ং তার বাহিনী দিয়ে জিয়ার বোনকে মারধর করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়, যার বাজার মূল্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। পরবর্তীতে গত ১৮/০১/২০১৯ তারিখে জিয়ার পরিবার সন্ত্রাসী আড়ং তার বাহিনীদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া চীপ জুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেট আদালতে ৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪ দণ্ডবিধি ধারায় মামলা দায়ের করেন যা এখনো চলমান আছে। তাদের এই কুকর্মের বিষয়ে ইতিপূর্বে পত্র পত্রিকায় লিখালেখিও হয়েছে বলে জানান তারা।
অদ্য ৩০ তারিখ রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ প্রতিবন্ধী জিয়ারের কোন সন্ধান মেলেনি। প্রতিবন্ধী জিয়ার পড়িবারের দাবি হত্যার উদ্দেশ্যে ইশারত, লালন, আলম ওরফে আড়ং, খসরু ও রফিক ৫জন সুপরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে জিয়াকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নিখোঁজ করে রেখেছেন। জিয়ার পিতা মাতা আরও জানান সন্ত্রাসী আলম ওরফে আড়ং, বিভিন্ন ভাবে আমাদেরকে হুমকি প্রদর্শন করে বলছে যে, তোদের একটাকে খেয়েছি এবার আরেকজনকে খাব যদি আমাদের নামে মামলা করিস। বর্তমানে জিয়ার পরিবারের সকল সদস্যরা শোকের মধ্যে আতংকে দিন পার করছে। তারা প্রতিবন্ধী জিয়ার নিখোঁজের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সন্ত্রাসী আলম ওরফে আড়ংগংদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করেন। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ৩০ তারিখ (সোমবার) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় জিয়ার পিতা বাদী হয়ে আড়ংগংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন পদ্মা নদীতে আসলে কী ঘটনা ঘটেছে তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।
কে এম শাহীন রেজা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























