কভিড ঝুঁকিতে রয়েছেন রাজধানীর প্রায় ৯ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী। প্রয়োজনীয় মাস্ক, গ্লাভসসহ সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই তারা সংগ্রহ করছেন সবধরণের বর্জ্য। এ কারণে তারা যেমন আক্রান্ত হতে পারেন, তেমনি ঘরবন্দি নগরবাসীর জন্য হয়ে উঠতে পারেন করোনার নীরব বাহক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে মহামারী রোধের সব আয়োজনই ভেস্তে যেতে পারে।

কভিড সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে টানা ছুটি। ঘরবন্দি রাজধানীবাসী। বন্ধ দোকানপাট, শপিংমল, গণপরিবহন। তবে ছুটি নেই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের। প্রতিটি বাসা-বাড়ি থেকেই বর্জ্য সংগ্রহ করছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। মুখে সাধারণ মাস্ক, সেটিও সবার নেই। অনেকে গ্লাভস ছাড়াই খালি হাতে তুলে নিচ্ছেন মেডিকেল বর্জ্যসহ নানা আবর্জনা। তাদের জন্য নেই জীবাণুনাশক ওষুধ। মনে করোনা শঙ্কা থাকলেও দায়িত্ববোধের কারণে কাজ বন্ধ রাখতে পারছেন না। এসব পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন থেকে বেশিরভাগ কর্মীই পাননি কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন প্রায় ৪ হাজার কর্মী। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রায় ৫ হাজার জন। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সময়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেয়া না হলে বাড়বে কভিড সংক্রমনের ঝুঁকি। সেই সঙ্গে তারা যেখানে থাকেন, সেটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায়, তাদের মাধ্যমে ওই এলাকায়ও বাড়ছে সংক্রমনের ঝুঁকি। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এম এইচ চৌধুরী বলেন, এই মুহূর্তে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা দেয়া না গেলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ব্যাপক হতে পারে। ওয়ার্ড কাউন্সিলররা বলছেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য সুরক্ষা উপকরণ চাওয়া হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বলছে, কভিড প্রতিরোধে তাদের কর্মীদের জন্য পাঁচ হাজার সুরক্ষা পোশাক দেয়া হবে। আর দক্ষিণ সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জানালেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য কেনা হয়েছে মাস্ক ও গ্লাভস। চিকিৎসকরা বলছেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারলে রাজধানীতে তারা হয়ে উঠতে পারেন কভিডের নীরব বাহক। একই সঙ্গে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে