কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়া পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালে গত ৯ মার্চ ভূল অপারেশনে নিহত গৃহবধু ফাতেমা খাতুন রেশমার নিহতের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার পরিবার। রেশমার মা রঙ্গিলা খাতুন দেশের বাইরে অবস্থান করায় সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হয়েছে জানিয়ে ইতিমধ্যে মডেল থানা পুলিশের সাথে মামলার বিষয়ে কথা বলেছে বলে জানা গেছে। নিহতের মা রঙ্গিলা খাতুনের অভিযোগ, ফাতেমা খাতুন রেশমা ও আব্দুর রশিদ একে অপরকে ভালবাসতো, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে ফাতেমা খাতুন রেশমার শাশুড়ি যৌতুকের জন্য শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। অভিযোগ উঠেছে, ফাতেমার স্বামী আব্দুর রশিদ ও তার মা তহুরা খাতুন, তার নিকট আত্বীয় নগর সাঁওতা গ্রামের মোঃ আলালের ছেলে জালাল, পরিকল্পিতভাবে কুষ্টিয়া শহরের পেয়ারাতলা এলাকার পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক দেলোয়ার হোসেন রুবেল এর যোগসাজেশে ওই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ফাতেমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। শুধু তাই নয় ঐদিন পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালে কোন ডাক্তার অপারেশন করেছিল তার কোন প্রমান নেই এমনকি ডায়াগনষ্টিক পরীক্ষা নিরীক্ষার কাগজপত্র সবকিছু সরিয়ে ফেলেছে।
ঐ দিন সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে গেলে পেয়ারতলার বাসিন্দারা বলেন, গত দুই বছরে এই হাসপাতালে আজকের মৃত্যু দিয়ে মোট মোট ১৩ জন প্রসূতি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তারা আরও বলেন পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতাল এখন কশাইখানায় পরিণত হয়েছে, এখানে বেশীর ভাগ সময় হাতুড়ে ডাক্তার কখনো দেলোয়ার হোসেন রুবেল নিজেই অপারেশন করেন। একারনেই মৃত্যুর সংখ্যাও বেশী হচ্ছে। সরকারের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে হাসপাতাল মালিক দেলোয়ার হোসেন রুবেল উপর মহলকে ম্যানেজ করে যত্রতত্র ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
রেশমার মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই ঐদিনই কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা পুলিশ পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালে অভিজান চালিয়ে কর্মরত দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া গ্রামের আ: গফ্ফারের ছেলে হারুনুর রহমান নিশান(২০)কে আটক করে অভিজানের আগেই মালিক দেলোয়ার ও তার স্ত্রী জেসমিনসহ সকলেই পালিয়ে যায় বলে এস আই ফিরোজুল ইসলাম জানান।
রেশমার মৃত্যুর বিষয়ে মালিক দেলোয়ার হোসেন রুবেলের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা এখন পালিয়ে আছি আমাদের চারজনকে ধরে নিয়ে গেছে অথচ আমরা কুষ্টিয়া মডেল থানায় গিয়ে পেলাম নিশান নামের এক কর্মচারীকে। অপারেশন কে করেছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিভিন্ন ডাক্তারের নাম বলেছিলেন। এ বিষয়ে নিউজ না করার জন্য প্রতিবেদককে উৎকোচ দিয়ে ধামা চাপা দিতে রাজশাহী নেওয়া হয়েছিলো হত্যার নাটকটা পরিপূর্ণ করার জন্য যাতে কোন সন্দেহ না থাকে। ফাতেমা মারা গেলে তার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের জন্য তোড়জোড় শুরু করে ফাতেমার স্বামী আব্দুর রশিদ এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই ফাতেমার লাশ তারা দাফন সম্পন্ন করে। ফাতেমার মা সৌদি আরব থেকে বার বার লাশ ময়নাতদন্তের কথা বললেও আব্দুর রশিদ ও তার সহযোগিরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করে। চলতি মাসের ৯ মার্চ এই ঘটনার পর ফাতেমার মা রঙ্গিলা খাতুন ১২ মার্চ দেশে আসেন। দেশে আসার পর তিনি মামলার প্রস্তুতি নেন বলে জানান।
ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা কশাইখানা পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মৃত ফাতেমা খাতুন ওরফে রেশমার স্বামী আব্দুর রশিদ ও পেয়ারাতলার এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কে এম শাহীন রেজা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























