স্বাধিকার আন্দোলনে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলো জয় বাংলা স্লোগান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এ স্লোগানেই হানাদারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বীর যোদ্ধারা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম জয় বাংলা উচ্চারণ করেন রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক জনসভায়। একাত্তরে জয় বাংলা স্লোগানে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ শেষ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে মূলমন্ত্র হিসেবে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই স্লোগান। রেসকোর্স থেকে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ শিবির- মুক্তির বীজমন্ত্র ছিলো এই স্লোগান।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জয় বাংলা’ নামে প্রকাশ হয় চারটি সংবাদপত্র। নজরুলের ভাঙার গান কবিতা গ্রন্থ থেকে নেয়া হয় জয় বাংলা শব্দ। তবে কখন কীভাবে এর উৎপত্তি তা নিশ্চিত নয়।
ইতিহাসবিদরা বলছেন, ঊণসত্তরের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে শিক্ষাদিবসের অনুষ্ঠানে প্রথম এ স্লোগান দেয়া হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব আহমেদ ও চিশতী হেলালুর রহমান “জয় বাংলা” স্লোগানটি সর্বপ্রথম উচ্চারণ করেন।

পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীন দেশে সেদিনও তার মুখে ছিলো ‘জয় বাংলা’। এই শ্লোগান আপন করে নিয়েছে নতুন প্রজন্মও। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি নিয়ে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদের ভাষা ছিল জয় বাংলা। এদিকে, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রিটের শুনানিকালে মৌখিক আদেশ দেন।
৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ড. বশির আহমেদ। জয় বাংলা-কে জাতীয় স্লোগান কেন ঘোষণা করা হবে না, তা রুলে জানতে চান হাইকোর্ট।
১০ ডিসেম্বর ওই রুলের ওপর শুনানিতে হাইকোর্ট অভিমত দেন যে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে সর্বস্তরে জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























