আমদানি, রপ্তানি ও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে গেছে। এতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চ সুদ হার ও ডলারের বিপরীতে টাকার দাম বেশি থাকায় বিনিয়োগে ঝুঁকি নিচ্ছেন না তারা। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতির গবেষকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক- জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমে গেছে। এর প্রভাবে সামগ্রিক আমদানি চিত্রে বড় ধরণের ধাক্কা লেগেছে। তাতে তিন মাসে মোট আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে প্রায় সোয়া তিন হাজার কোটি টাকা।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর আমদানির চিত্র
শিল্পের কাঁচামাল কমেছে ৬.৫৩%
মূলধনী যন্ত্রপাতি কমেছে ০.৩৬%

একই ভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ধারাবাহিকভাবে কমেছে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ। প্রথম তিন মাসে গড়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমেছে চার শতাংশ।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ চিত্র
জুলাই ২০১৯ : ১১.২৬% আগস্ট ২০১৯: ১০.২৮% সেপ্টেম্বর ২০১৯: ১০.৬৬%
জুলাই ২০১৮: ১৫.৮৭% আগস্ট ২০১৮: ১৪.৯৪% সেপ্টেম্বর ২০১৮: ১৪.৬৬%

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ তিনমাসে গত বছরের তুলনায় রপ্তানি আয় কম হয়েছে একশ ৪ কোটি ডলার।

প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি আয় কমার চিত্র
চলতি অর্থবছরের রপ্তানি আয় ৮শ’ ৫ কোটি ডলার
গত বছরের রপ্তানি আয় ছিল ৯শ’ ১০ কোটি ডলার

গত আড়াই দশকে ধারাবাহিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছালেও গত তিন বছর ধরে তা ২৩ শতাংশের ঘরে আটকে আছে। এমন পরিস্থিতির জন্য অর্থনীতির গবেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করছে না।

আর উদ্যোক্তারা বলছেন, ব্যাংকের উচ্চ সুদ হার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের ঘাটতি, ডলারের বিপরীতে টাকার উচ্চ মূল্য, বিদ্যুত ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করায় ব্যবসার খরচ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলোর বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে