সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আজ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানির সময় বিএনপির আইনজীবীরা হইচই ও শ্লোগান দিলে এজলাস কক্ষে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট আদালতে পেশ না করা এবং জামিন আবেদনের শুনানি পিছিয়ে দেয়ায় এই বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করে তারা। এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে চলে যান। পরে আবার এজলাসে ফিরে এলেও হট্টগোলের কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকে পুরা সময়। এ অবস্থায় ক্ষোভ জানান প্রধান বিচারপতি। বিএনপির আইনজীবীদের এই আচরণকে আদালতের প্রতি অনাস্থা ও অসম্মান বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিলো আজ (বৃহস্পতিবার)। নির্ধারিত সময়ে এজলাসে বসেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৬ বিচপারপতির বেঞ্চ।এদিন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও আদালতের কাছে আরো সময় চান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
আদালতকে তিনি জানান, খালেদা জিয়ার আরো কিছু শারীরিক পরীক্ষা বাকি রয়েছে। যা শেষ না হওয়ায় আদালতে দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা মানবিক দিক বিবেচনায় জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষে সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী ১২ই ডিসেম্বর দাখিলের দিন ধার্য করেন। এই আদেশ শুনে এজলাসে হট্টগোল শুরু করে বিএনপির আইনজীবীরা।
সিনিয়র আইনজীবীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেও বিফল হন। এ অবস্থা চলে আপিল বিভাগের পুরো প্রথম সেশনজুড়ে। এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ অন্য বিচারপতিরা এলজাস কক্ষ ছেড়ে চলে যান।এরপর দ্বিতীয় সেশনে অন্য মামলার শুনানি শুরু করলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আবার হট্টগোল শুরু করে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সোয়া একটা পর্যন্ত পুরো দ্বিতীয় সেশন জুড়েই প্রধান বিচারপতির আদালত কক্ষে নানা শ্লোগান দেন।এ সময় এজলাস থেকে কাউকে বের হতে দেয়া হয়নি। এ সময় আইনজীবীদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডাও হয়। এতে আপিল বিভাগের পুরো বিচার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রধান বিচারপতিসহ বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা চুপচাপ বসে থাকেন।
আপিল বিভাগের এলজাস কক্ষে বিএনপির আইনজীবীদের এমন হট্টগোলের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। বলেন, বাড়াবাড়ির একটি সীমা আছে।খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদলত ও আইনজীবী সমিতির ভবনে মিছিল করেন। তবে সকাল থেকেই পুরো সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ও প্রবেশ পথগুলোতে নিরাপত্তা কড়াকড়ি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সূত্র- বৈশাখী
অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























