পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রবণতা কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। সরকার আমদানি বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নিলেও তদারকির আভাবে মিলছে না তার সুফল। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের কেজি এখন ১২০ টাকারও ওপরে। খোদ বাণিজ্যমন্ত্রীর মুখেও এ নিয়ে হাতাশা আগামী মৌসুমের পেয়াজ আসার আগ পর্যন্ত কষ্ট সইতে হবে ক্রেতাদের।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির তথ্যমতে, তিন মাস আগে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর আমদানি করা এই পণ্য বেচাকেনা চলছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। সেপ্টেম্বর মাসের ২৯ তারিখে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারত। তারপরই শুরু হয় অস্থিরতা। ফলে ১ দিন পরেই দেশের বাজারে প্রতিকেজির দাম একশো টাকার বেশিতে ওঠে।
পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক করতে জেলায় জেলায় মোকাম ও আড়তে অভিযান চালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি খোলাবাজারে ৪৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করে টিসিবির ট্রাক। এসব উদ্যোগের প্রভাবে দাম কমে ৭০-৯০ টাকার মধ্যে আসে। কিন্তু তা খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দ্রুতই আবার ১০০ টাকা, পরের ধাপে ১১০ টাকা এবং সব শেষ ১২০ টাকায় উঠে আসে।দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের তদারকি বাড়ানোসহ বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন (ক্যাব)।
পেঁয়াজের দাম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপের মতো বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে পচনশীল এই পণ্য আমদানির ব্যবস্থা করতে বলেন, যদিও এইসব শিল্পগ্রুপ পেয়াজের ব্যবসার করে না। পাশাপাশি এক্ষেত্রে ব্যাংকঋন কমিয়ে রাখাসহ আরও কিছু ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেইসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলে আছে অভিযোগ। এ কারণে হতাশ খোদ বাণিজ্যমন্ত্রীও।
বৈঠকের পর বড় কিছু ব্যবসায়ী বিশেষ ব্যবস্থায় চীন, মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশরসহ কিছু দেশ থেকে পেঁয়াজ আমাদানির ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু তা মাসখানেকের আগে দেশে আসার সম্ভবনা কম। ২৬ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে দেশে প্রায় ১৮ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। ঘাটতি প্রায় ৮ লাখটনের চাহিদা মেটানো হয় মূলত ভারতীয় পেঁয়াজ দিয়ে।
তথ্যঃ ইন্ডিপেনডেন্ট
অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




























