কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়া কুমারখালীর আলাউদ্দিন নগর শিক্ষাপল্লীতে বিশিষ্ট সমাজসেবক আলাউদ্দিন আহমেদের শ্বশুর প্রয়াত গাজী হাবিবুর রহমানের শেষ ইচ্ছা ও তাঁর নিজ স্বপ্নের পরিপূর্ণতা দিতে গত ১লা বৈশাখ ১৪২৩ বঙ্গাব্দে নববর্ষের প্রথম দিনে আলাউদ্দিন নগর শিক্ষাপল্লীর বাজারে তাঁর মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত তহিরননেছা হাসপাতালটির শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেছিলেন।

গত শনিবার ড. আলাউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে তহিরননেছা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক এর আধুনিকায়ন ও বিশেষ সেবা সপ্তাহের শুভ উদ্ভোধন করেন। উক্ত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা: রওশন আরা বেগম। হাসপাতালটির আধুনিকায়ন ও বিশেষ সেবা সপ্তাহের শুভ উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বলেন, সোনার দেশের সোনার ছেলে’ আলাউদ্দিন সাহেব তার নিজ এলাকায় এক মহতি উদ্যোগ নিয়ে এই হাসপাতালটি গড়ে তুলেছেন, এই হাসপাতালটি শুধুর তাঁর একার নয় এটা আপনাদের সর্বস্তরের মানুষের, এটার দেখভাল করার দায়িত্বও আপনাদেরই।

তিনি এত বড় একটি অবকাঠামো দিয়ে তৈরী করেছেন সূবিশাল হাসপাতাল যা ৫০ কেন ১০০ বছরেও এর কোন ক্ষতি হবেনা, এই প্রতিষ্ঠানটি যেন টিকে থাকে অনন্তকাল ধরে। আমি তার কাছে একজন ছোট ও নগন্য মানুষ তবুও এই মহৎ মানুষটিকে বলতে চাই হাসপাতালটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য দক্ষ ও ভাল মন মানষিকতার জনবল দিয়ে পরিচালিত করবেন। তারা যেন সেবার মন মানষিকতা নিয়ে জনগনকে সেবা দিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমি আজ আছি কাল নেই তবুও যতদিন কুষ্টিয়াতে এই পদে আছি ততদিন পর্যন্ত আলাউদ্দিন আহমেদকে সহযোগীতা করে যাব। উপস্থিত জনগনের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি আলাউদ্দিন সাহেবের কষ্টার্জিত ফসল এই ফসলকে আপনারা নষ্ট করবেননা। আপনারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করবেন, তিনি এলাকাসহ সমগ্র দেশের একজন গৌরব তাঁর একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতই এটি একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিকায়ন করতে যা যা করা লাগবে আমরা তাঁর পাাশে থেকে সহযোগীতা করে যাবো।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য প্রদান করেন, ডা:এ,এফ.এম আমিনুল হক রতন, ডা: আকুল উদ্দিন, ডা: রতন কুমার পাল, ডা:মাহফুজুল হক, ডা: উম্মে আবেদীনা সায়মা ও অবসর প্রাপ্ত অতিরিক্তি সচিব ময়েজ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও আব্দুল হকসহ বিভিন্ন এলাকা ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল ঢাকা থেকে আগত আমন্ত্রিত অতিথিদ্বয়ও বক্তব্য প্রদান করেন।
হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠাতা ও আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি, এটাকে আমি আরও আধুনিকায়ন করা হবে প্রতিষ্ঠানটিকে আপনারা নিজের মনে করে দেখভাল করবেন। পশ্চিম দিকে আরও প্রশস্থ করবো বৃহৎ পরিসরে এই হাসপাতালটির কার্যক্রম চলবে। আমি চেষ্টা চালিয়ে যাব ভাল ও দক্ষ মানের ডাক্তার এখানে নিয়োগ করা হবে আপনারা হতাশ হবেননা। আধুনিক যন্ত্রপাতির এনে স্বল্পমুল্যে অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাব আপনাদের। তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালটি তৈরী করার স্ব্প্ন দেখেছিলাম আজ থেকে ৪০ বছর আগে। ২০ বছর আগে মাতা ও শাশুড়ীকে দিয়ে ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপন করে রেখেছিলাম। সেই স্বপ্ন ২০১৬ সালে বাস্তবায় করেছি। শুধু গ্রামের মানুষের জন্যই আজ আমার এ নিরন্তর প্রচেষ্টা।
মানুষের কল্যানে গাজী হাবিবুর রহমান জীবন উৎস্বর্গ করেছিলেন। গ্রামের দুস্থ, অসহায়, গরীব সাধারন মানুষের কথাই তিনি বেশী ভাবতেন। তাঁর এই অন্তিম ইচ্ছায় কুমারখালী আলাউদ্দিন নগরেই আজ থেকে বিশ বছর আগে তাঁর মহিয়সী মাতা তহিরননেছা ও শ্রদ্ধাভাজন শাশুড়ী মিসেস মনোয়ারা হাবিব দু’জনে তহিরননেছা হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্থ উদ্বোধন করেছিলেন। উক্ত আনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনা ও উপস্থাপনায় ছিলেন, আলাউদ্দিন আহমেদ কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো: জাহাঙ্গীর আলী খাঁন। অনুষ্ঠান শেষে আগত সূধীজনসহ সকলের মাঝে খাবার বিতরন করেন সততা রেষ্টুরেন্ট থেকে।
কে এম শাহীন রেজা,
কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














