রোহিঙ্গাদের জন্য ভুয়া এনআইডি তৈরি করে তার তথ্য নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে সংযুক্ত করছে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র। রোহিঙ্গা এক নারীকে আটকের পর এ-রকম অন্তত ৭০টি ভুয়া এনআইডি শনাক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে আশি-নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের একটি চক্র এসব ভুয়া এনআইডি তৈরি করছে বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
রোহিঙ্গা নারী রমজান বিবি জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র। লাকি নামে তার ছবিসহ পরিচয়পত্রের তথ্য রয়েছে কমিশনের সুরক্ষিত কম্পিউটার সার্ভারে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাগজপত্রে এই নামে ভোটার নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যুর কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে স্মার্ট কার্ড নিতে গিয়ে ধরা পড়েন তিনি। পরে নির্বাচন কর্মকর্তাদের তদন্তে বেরিয়ে আসে, নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে দেখা যাচ্ছে আরও কমপক্ষে ৭০টি ভুয়া এনআইডির তথ্য।
নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, কমিশনের নিজস্ব লোক জড়িত না থাকলে কোনোভাবেই এসব তথ্য সার্ভারে সংযুক্ত করা সম্ভব নয়। কারা এর জন্য দায়ী তা তদন্ত করতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে কাজ করছে দুটি কমিটি। পুলিশ বলছে, একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র আশি-নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের তথ্য ভুয়া এনআইডির মাধ্যমে ইসির সার্ভারে সংযুক্ত করছে। রমজান বিবির স্বামী নজির আহমদও এই চক্রটির সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নির্বাচন কমিশন যেসব ভুয়া এনআইডি শনাক্ত করেছে সবগুলোই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করে তৈরি করা। এসব এনআইডির সিরিয়াল নম্বরও ঠিক নেই বলে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন কার্যালয়।
নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্স নিউজ



























