একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় নিু আদালতের রায়ের পর এক বছরেও শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়নি আপিল আবেদন। হাইকোর্টে দণ্ডিত আসামিদের আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আর তারেক রহমানসহ দণ্ডিত ১৮ আসামি এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বিদেশে পলাতক আসামিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

হামলার নেপথ্যে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সংশ্লিষ্টতা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। ছিল আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ১৬ বছর আগে ২০০৪ সালের এই দিনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সেই হামলা থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে নিহত হন আইভি রহমান আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী। আহত হন ৩শ’র বেশি।
হামলার ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর দুটি মামলার রায় দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। রায়ে ৪৯ আসামীর মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড ও বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। দণ্ডিত আসামির মধ্যে ৩১ জন কারাগারে। তারেক রহমান, হারিস চৌধুরীসহ হাই প্রোফাইল ১৮ আসামি এখনও পলাতক। এদের মধ্যে তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরী যুক্তরাজ্যে, মোফাজ্জল হোসেইন কায়কোবাদ ও হরকাতুল জিহাদ নেতা জাহাঙ্গীর বদর সংযুক্ত আরব আমিরাতে, তৎকালীন ডিজিএফআই’র কর্মকর্তা এ.টি.এম আমিন যুক্তরাষ্ট্রে, আরেক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার কানাডায় পলাতক বলে জানা যায়। এছাড়া, মাওলানা তাজউদ্দিন ও তার ভাই বাবু ওরফে রাতুল বাবু দক্ষিণ আফ্রিকায়, পরিবহন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হানিফের অবস্থান থাইল্যান্ডে। ভারতের কারাগারে বন্দি আছে জঙ্গি দুই ভাই মোরসালিন ও মুত্তাকিন।

পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। এছাড়াও অন্য আসামিদের মধ্যে হরকাতুল জিহাদ নেতা শফিকুর রহমান, আব্দুল হাই, দেলোয়ার হোসেন জোবায়ের ওরফে লিটন, খলিলুর রহমান ও ইকবাল এবং পুলিশ কর্মকর্তা খান সাঈদ হাসান ও ওবায়দুর রহমান কোথায় আছে- সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। কারাগারে থাকা ৩১ জন আসামি তাদের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তাদের আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
উচ্চ আদালতেও আসামিদের সাজা বহাল থাকবে বলে আশা রাষ্ট্রপক্ষের।
নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্স নিউজ



























