মহাকাব্যিক সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে রেকর্ড গড়া বিজয় এনে দিলেন সাকিব আল হাসান। টন্টনের সমারসেট কাউন্টি ক্লাব গ্রাউন্ডে সাকিবের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর লিটন দাশের ঝড়ো ৯৪ রানে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে হারালো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সেই সাথে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডও গড়লো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩’শ ২১ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাহাড় সমান রান তাড়া করতে নেমে ৪১ ওভার ৩ বলেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান।

নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ। মহাকাব্যিক এক সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের রুপকথা গাঁথা এই জয়ে অবদান রাখলেন সাকিব আল হাসান। ক্রিকেট বিশ্বকে আবারো প্রমাণ করলেন কেন সাকিব অলরাউন্ডার। সাকিবের দুর্দান্ত শতক পাওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ পা রাখলো আরো একটি জয়ের বন্দরে।

টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পেতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ৩’শ ২২ রান। পাহাড় ঘেঁষা সমারসেট ক্রিকেট গ্রাউন্ডটি আকৃতিতে কিছুটা ছোট। আর এই ছোট মাঠই বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকে শুরু থেকে। এবারের বিশ^কাপে রান পেতে ভুলে যাওয়া তামিম ইকবালের আত্মবিশ্বসী শুরু সাথে ছিলো সৌম্য। তাদের দু’জনের ব্যাটে মনে হচ্ছিলো মর্নিং শোজ দ্য ডে। সেই উজ্জ্বল প্রভাতের মতোই বাকি সময় এগুতে থাকলো বাংলাদেশের ব্যাটিং। ৫২ রানের জুটি গড়ে সৌম্য বিদায় নিলেও আশার প্রদীপ জালিয়ে রাখছিলেন দুই বন্ধু তামিম ও সাকিব। তাদের ব্যাটের জাদুতে হতাশা বাড়তে থাকে ক্যারিবিয়দের। তামিম ৪৮ রানে আউট। আরেক নির্ভরযোগ্য মুশফিকুর রহিম এদিন সুবিধা করতে পারেননি। বাংলাদেশের ব্যাটিং আকাশে কালো মেঘের ছায়া।

কিন্তু সেই কালো ছায়া মাড়িয়ে টন্টনের আকাশ হাসতে শুরু করে সূর্যের আলোয়। আর সেই আলো আরো আভা ছড়ায় সাকিব ও লিটন দাশের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। বিশ্বর বুকে ছড়িয়ে থাকা কোটি বাংলাদেশীকে, জয়ের স্বপ্নটা বাস্তবে রূপ দেয়ার পথ দেখাতে থাকেন। চাপের মুখে কিভাবে ব্যাট চালিয়ে রানের চাকা সচল রাখতে হয় তাও দেখালেন দু’জন। দেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মঞ্চে টানা দুই সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব আল হাসান।

এবারের বিশ^কাপে প্রতিটি ম্যাচেই ক্রিকেট বিশ্ব দেখছে এক নতুন সাকিবকে। শুধু সেঞ্চুরি করেই ক্ষান্ত থাকেননি এই বিশ^সেরা অলরাউন্ডার। অ্যারন ফিঞ্চকে পেছনে ফেলে হয়ে গেছেন এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীও। সাকিবকে ভালো সঙ্গ দিয়ে ক্যারিবিয়দের হতাশায় পুড়িয়েছেন লিটন দাশও। বিশ্বকাপে নিজের অভিষেকটা আবিরের রঙে রাঙিয়ে রাখলেন এই ব্যাটসম্যান। দারুণ শাসন করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলারদের। উইকেটের চারপাশে রানের ফোয়ারা ছড়িয়ে মনে রাখার মতো এক ইনিংস খেলে লিটন দাশ অপরাজিত থাকেন ৯৪ রানে। আর বিশ্বসেরা সাকিব অপরাজিত ১’শ ২৪ রান করলে বাংলাদেশ ক্যারিবিয়দের পরাজয়ের লজ্জায় ডোবায় ৪১ ওভার ৩ বলেই।

এর আগে ক্যারিবীয়দের সোয়া তিনশো ছুঁই ছুঁই ইনিংসে বড় অবদান এভিন লুইস ও শাই হোপের। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ডেঞ্জারম্যান ক্রিস গেইল’কে টাইগার পেসার শফিউদ্দিন শূণ্য রানে ফেরানোর পর এ’দুজনের গড়া ১১৬ রানের পার্টনারশিপে ম্যাচে ফেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৬৭ বলে ২ ছক্কায় ৭০ লুইসের। ক্যারিবিয় ইনিংস জুড়ে ব্যাট করে যাওয়া হোপ চার রানের জন্য মিস করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে তার চার নম্বর ওডিআই সেঞ্চুরি। তবে বাংলাদেশ শিবিরকে মানসিকভাবে চাপে ফেলে হেটমায়ার ও অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের দুটি বিধ্বংসী ইনিংস। ২৬ বলে তিন ছক্কায় হাফসেঞ্চুরি হেটমায়ারের। অধিনায়ক হোল্ডারের ২ ছক্কায় করা ৩৩ রানে ক্যারিবিয়রা ম্যাচে আধিপত্য পেয়ে যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোর গড়ে ৮ উইকেটে ৩২১ রান। নটিংহ্যামে ২০ জুন বাংলাদেশ নামবে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আশায়।
বৈশাখী থেকে
অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














