ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে দেশের বৃহত্তর স্থাপনা বঙ্গবন্ধুসেতু ও তার আশে পাশের এলাকা। শাস্তি ও জরিমানা করা সত্ত্বেও থেমে নেই বালু ব্যবসায়ীরা।

আইন অমান্য করে বালু উত্তোলন ও বিক্রির দায়ে সম্প্রতি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ৭টি অবৈধ বালু ঘাটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কায়সার খসরুর নেতৃত্বে অভিযান চালায়। এসময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও তাৎক্ষণিক ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায়সহ অর্থদন্ড করা হয় ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অতিরিক্ত মুনাফা আদায় হয় বিধায় অবৈধ জেনেও এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল কৌশল পাল্টে দিনের বেলা বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ রেখে রাতের বেলা চালু রেখেছে তাদের এই অবৈধ কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার নিষেধ করা সত্বেও সেতুর পূর্বপাড়ে বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস সীমানার উত্তর ও দক্ষিণে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সারি সারি ড্রেজারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে গাইড বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়াসহ হুমকির মুখে পড়েছে বঙ্গবন্ধুসেতু।

সেতুর পূর্ব পাড়ের উত্তরে ভূঞাপুর ও দক্ষিণে কালিহাতী উপজেলার পৃথক দু’টি অংশে দু’টি সিন্ডিকেট প্রশাসনকে এক রকম বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেই সচল রেখেছে তাদের এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন ব্যবসা। ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি, নিকরাইল ও গোবিন্দাসী এলাকায় ৮টি পৃথক স্থানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সেতু বিভাগের পুকুরের পাড় ব্যবহার করে বালু পরিবহনের জন্য রাস্তা তৈরি করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সরবরাহ করছে।
অপরদিকে, দক্ষিণাংশে কালিহাতী উপজেলার সেতু সীমানার প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে শ্যামশৈল, চরসিঙ্গুলী ও আলীপুর মৌজায় পৃথক ৪টি ঘাট স্থাপন করে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতু সংলগ্ন ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কোন নৌ-ঘাট না থাকলেও এসবিইএম ড্রেজিং লাইন, সরকার আনলোড ড্রেজার, সোনালী বিজয়, অনাবিল, ডালিম, আল্লাহ মহান-১-২-৩, আকলিমা, মামা-ভাগিনা, জলিল-ইকবাল, সাদ-সামি, শাপলা, রাফি, এসবি-৩, অনুসন্ধান, খাদিজা অ্যান্ড আলিফ, শাহ্জালাল, সোনিয়া-২, মা-বাবার দোয়া, এমবি নাহিদ-নাসিদ, ইশা-জিয়া, আল্লাহর দান, বসুন্ধরা, বৃষ্টি-বর্ষা-২, মুন্নী, এসবি প্লাস, রংধনু ও এসবি রিতু এন্টারপ্রাইজসহ নানা নামীয় শতাধিক ড্রেজার নদীতীরে সারি করে বেধে রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড্রেজিং মেশিনগুলো ভূঞাপুর অংশের বালু ব্যবসায়ীরা সৈয়দপুর, নারায়নগঞ্জ, ভৈরব বাজার, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাড়ায় এনে বালু উত্তোলন করছেন। ড্রেজিং মেশিনগুলোর বেশিরভাগেরই ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স, ফিটনেস সহ নৌ-পথে চলাচল ও ড্রেজিংকরার কোন বৈধ কাগজপত্র নেই।

স্থানীয় এলাকাবাসী মনে করেন, এসব ড্রেজিং মেশিনগুলো চালু করায় রুহুলী, কুকাদাইর ও মাটিকাটা অংশে বঙ্গবন্ধুসেতু রক্ষা গাইড বাঁধের স্টিলনেট, পাথর, জিও টেক্সটাইল ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। প্রমত্তা যমুনার করাল থাবা শুরু হলে সেতু রক্ষা গাইডবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ও বৃহত্তর স্থাপনা বঙ্গবন্ধুসেতু হুমকির মুখে পড়েছে।
ভূঞাপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান জানান, এতদাঞ্চলের মধ্যে শুধুমাত্র ভূঞাপুরের গোবিন্দাসীতে একটি নৌ-ঘাট রয়েছে, যদিও সেটা এখন প্রায় মৃত। বালু উত্তোলন, স্তুপ বা সরবরাহ বন্ধে সরকারি নির্দেশনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। তবে, সরেজমিন পরিদর্শন করে নৌ-পরিবহন বিধিমালা অনুসারে ড্রেজারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কে এম মিঠু
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি , বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে