চট্টগ্রামঃ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি-জামাত মানুষ পোড়ানোর রাজনীতি করেছে। আর তাদের পেট্রোলবোমায় পোড়া মানুষ ও পরিবহনের ক্ষতিপূরণ দিয়েছি আমরা শেখ হাসিনার সরকার।’ শনিবার বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহণ মালিক ফেডারেশন আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
আয়োজক সংস্থার সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। ‘বিএনপি-জামাত পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের রাজনীতি করে’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে পেট্রোল বোমা দিয়ে ঘুমন্ত চালকদের হত্যা করেছে বিএনপি-জামাত, শত শত গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তখন তারা যত গাড়ির চালককে পেট্রলবোমায় হত্যা করেছিল সবাইকে ১০ লাখ টাকা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সহায়তা করা হয়েছে। যারা আহত হয়েছিলেন এবং যাদের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল তাদেরকেও সহায়তা দেয়া হয়েছে।’
দুঃখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অথচ রাজনীতি হচ্ছে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য। সমাজ ও দেশের উন্নয়নের জন্য। কিন্তু বিএনপি-জামাত পেট্রোল বোমার মারার রাজনীতি করে। এজন্য তাদেরকে প্রত্যাখান করতে হবে।’ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের ধারা চলমান রয়েছে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, বলেন চট্টগ্রামের সন্তান ড. হাছান মাহমুদ। পণ্য পরিবহনকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করে তথ্যমন্ত্রী এই খাতে কর্মরতদের নিরাপত্তার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘দেশে গাড়ি বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্ঘটনা রোধে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চালক নিয়োগ করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে যদি নিদের্শনা দেওয়া হয়, লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ি চালাতে পারবে না, তাহলে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব।’ মালিকে ফেডারেশনের দাবির প্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি নয়, চট্টগ্রামে দুটি পরিবহন টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে এর কাজ শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বন্দর থেকে পণ্য আনা-নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা ঠিক না থাকলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে না। এজন্য সরকার সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে জোর দিচ্ছে।’ গত ১০ বছরের সড়ক নেটওয়ার্কের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে অনেক সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। সম্প্রতি দেশের লাইফ-লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুটি সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া কিছু মহাসড়কের কাজ এখনো চলমান। ফলে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যে ঝামেলা ছিল সেগুলো অনেকটা দূর হয়েছে।’ ‘পায়রা ও মোংলা বন্দরকে ঘিরে ব্যাপক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে ও ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে সরকার একাধিক প্রকল্প নিয়েছে’, জানান ড. হাছান।
চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, চট্টগ্রামের রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং চট্টগ্রাম জেলার স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক চক্রবর্তী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম রাশেদুল আলম প্রমুখ ইফতার মাহফিলে যোগ দেন।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























