কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥  কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বরিয়া টাকিমারা গ্রামের মধ্যে দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তি ভেজাল পণ্যের সমাহারে গড়ে তুলেছেন জাহান গ্রুপ। ছোট্ট একটি গোডাউন তৈরী করে সেখানে মোড়কজাত করছেন ২৮ প্রকারের পণ্য সামগ্রী যার মধ্যে দুটি কীট নাশক পণ্যোর লাইসেন্স আছে তা সরেজমিনে দেখা গেছে। উক্ত গোডাউনের মধ্যে সরেজমিনে ঢুকে দেখা গেছে কোন ধরনের মেশিনপত্র নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মরত এক মহিলা কর্মচারী প্রতিবেদকে জানায়, পুরাতন ঢাকা থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পন্য সামগ্রী কিনে এনে এখানে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে তা মোড়কজাত করা হচ্ছে। তার প্রতিটা পণ্যের মোড়কে লিখা আছে জাহান গ্রুপ এর একটি পন্য। তারতো আর কোন প্রতিষ্ঠান নেই একটিই প্রতিষ্ঠান জাহান গ্রুপ ণূন্যতম ৭টি প্রতি প্রতিষ্ঠান থাকলে সেটাকে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লি: এ রূপান্তরিত হয়। অথচ একটি প্রতিষ্ঠান খাড়া করেই গ্রুপ বানিয়ে দিয়েছেন এই সূচতুর আব্দুল মালেক।

ঐ দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদ্বয়, তাদের সন্মুখে শুধুমাত্র দুটি লাইসেন্স দেখাতে পারেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও মার্কেটিং অফিসার। কোন অজ্ঞাত কারনে ভোক্তা সংরক্ষন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান কোন প্রকার পদক্ষেপ না নিয়ে ফিরে আসেন অফিসে ঐ সময় প্রতিবেদকে জানান মালিকের সাথে কথা হল, তিনি ঢাকাতে আছেন একদিন সময় চেয়েছে আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর জন্য। পরবর্তীতে কোন প্রকার পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে তারা বহাল তবিয়তে এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।

কৃষি মন্ত্রনালয় থেকে বরিয়া টাকিমারা ঠিকানা ব্যবহার করে ৭/৩/১৮ তারিখে এমএম ট্রেডার্স থেকে জিনিক ফসফিডাইড ওয়েট বেইট কিনাশক তৈরীর অনুমতি গ্রহন করলেও বরিয়াতে উক্ত কীটনাশক তৈরী হচ্ছেনা।
কুষ্টিয়া পৌরসভা থেকে জাহান গ্র“প মঙ্গলবাড়ীয়া বাজার ঠিকানা ব্যবহার করে গত ৭/৩/১৯ তারিখে ৬০০৬ নং মৎস্য খামারের লাইসেন্স গ্রহন করলেও মঙ্গলবাড়ীয়া বাজারে কোন খামারের সন্ধান পাওয়া যায় নাই।এদিকে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের মাধ্যমে এম এম ট্রেডার্সের বরিয়া কুষ্টিয়া সদর নামে গত ৭/৩/২০১৮ ইং তারিখে ঈদুর নাশক ২% জিংক ফসফাইড গমের বেইট ফরমুলেশন লাইসেন্স গ্রহন করেন যার নং ৮৪। উক্ত কীটনাশক ঔষধ কুষ্টিয়া সদর বরিয়াতে উৎপাদিত হতে দেখা যায় নাই।

শুধুমাত্র একটি মেশিন দেখা গেছে ফ্রীডম নামের বলপেন তৈরীর ছোট্ট একটি মেশিন যা দিয়ে তৈরী করছেন বলপেন, উক্ত বলপেন তৈরীর কোন লাইসেন্সও দেখাতে পারেন নাই। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন নেই, নেই কোন অগ্নী নির্বাপনের ব্যবস্থা। এমনকি বিএসটি আই এর অনুমোদন দেখাতে পারেন নাই কর্তৃপক্ষ।উক্ত জাহান গ্রুপ এ তৈরী হচ্ছে মশা কিলার সুপার কয়েল, স্টার মশা কিলার সুপার কয়েল, ঘুড়ি ওয়াশিং পাউডার, ঘুড়ি পাউডার, জাহান এক্সট্রা, ফ্রিডম বলপেন, ফ্রিডম বলপেন স্পেশাল, জাহান র‌্যাট কিলার, তিরতাকো, কিলার এম ৫৫ ইসি, জাহান হারপিক, নারিকেল তৈল, লবন, ধীমানের রাধুনী লবন ও অন্যান্য। উক্ত পন্যগুলি বিভিন্ন ওজনের মধ্য দিয়ে সর্বমোট ২৮টি পন্যের ডেলিভারী রশিদ বইয়ের তালিকা থেকে পাওয়া গেছে। উপরোক্ত লাইসেন্সধারী কিটনাশকের একটি কীটনাশক ঔষধ উপপাদন করেন না, যেখানে মেশিনই নাই সেখানে উৎপাদন করবেন কিভাবে। সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে যে ৫২টি পণ্য বাতিল করা হয়েছে কিন্তু জাহান গ্রুপ এর পণ্যের নামই তো বিএসটিআই কর্তৃপক্স জানেন না।

বরিয়া টাকিমারা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান আব্দুল মালেক একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা, উক্ত এলাকার সকলের কাছে তিনি সেনা কর্মকর্তা বলে ব্যাপক পরিচিত। আসলে তিনি কোন সেনা কর্মকর্তা নন, তিনি একজন সূচতুর ও ধূর্তবাজ ব্যক্তি তার নামে রয়েছে ১০ চাকার চারটি বড় ট্রাক, প্রাইভেট কার, চারটি মটর সাইকেলের মধ্যে দুটি মটর সাইকেলের কোন কাগজ পত্র নেই উক্ত টানা মটরসাইকেলে ভূয়া নং ব্যবহার করে চালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। গোপন সুত্রে আরো জানা গেছে এই সূচতুর ব্যক্তি ঢাকার চোরাকারবারীদের সাথে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা ছিল, ছিল জমি ক্রয় বিক্রয়ের দালাল। এখন তিনি ক্ষমতাশীন দলের ঘনিষ্টজন বলে দাবী করেন বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে। ক্ষমতাশীন দলের দোহায় দিয়ে সাধারন মানুষকে ভেজাল পণ্য সরবরাহ করে যাচ্ছে কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলাব্যাপী।

অন্যদিকে উক্ত ব্যক্তি পণ্যের ভাইচার ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করছে আবার কোনটিতে কোন ঠিকানা নেই। তার ভাউচার দেখে লক্ষ্য করা গেছে ‘জাহান গ্র“প’ ঢাকা বাংলাদেশ, ‘জাহান গ্রুপ’ মনিপুরীপাড়া তেজগাঁও ঢাকা, আবার আর একটিতে ভাউচারে দেখা গেছে শুধুমাত্র ‘জাহান গ্রুপ’ উক্ত ভাইচারে কোন ঠিকানা নেই। উক্ত বিষয়ে জাহান গ্রুপ এর মালিক আব্দুল মালেকের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন না। রিসিভ না করে ম্যাসেজ পাঠান মর্মে যে, “আপনি কে ? কি বিষয়ে কথা বলতে চান ? ম্যাসেজে লিখে পাঠান।বিষয়টি প্রশাসনের কঠোর নজরদারী ও পুন:রায় প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে খুটিনাটি যাচাই বাছাই পূর্বক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রয়োজন বলে মনে করেন বরিয়া টাকিমারা এলাকার বাসিন্দারা।

কে এম শাহীন রেজা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে