গত ২০ বছরে সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। সমুদ্রে প্রায় দুই হাজার আর স্থলভাগে ৩০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছে এই ঝড়। আর এর আয়তন ছিলো বাংলাদেশের চেয়েও বেশি। ভারতের মেঘালয় হয়ে হিমালয়ে গিয়ে থামবে এর গতি, সে সময় প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস সত্যি হলে, হাওরাঞ্চলে আছে হঠাৎ বন্যার শঙ্কা।

আঘাত হানার আগে চার দফা গতিপথ বদলেছে ফণী। শুরুতে ভারতের তামিলনাড়ু-অন্ধ্র প্রদেশের দিকে থাকলেও, পরে তা মোড় নেয় ওড়িশার দিকে। শুক্রবার সকালে পুরি তছনছ করে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে এগিয়ে আসে বাংলাদেশের দিকে। ২০০৭ সালে সিডর প্রায় দেড় হাজার এবং ২০০৯ সালে আইলা প্রায় ৯০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আঘাত হেনে ছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। আর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ফনী, দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে আঘাত হানে ওড়িশা উপকূলে। ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৭৫ থেকে ১৮৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ার আকারে বাড়ছিল ১৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।

এরপর ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে ঝড়টি। এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ পেরিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে আসে বাংলাদেশে। শনিবার সকাল ৬টায় অবস্থান করছিল সাতক্ষীরা, যশোর ও খুলনা অঞ্চলে। উত্তরে সরে গিয়ে সকাল ৯টায় প্রভাব বিস্তার করে ঢাকা ও ফরিদপুরে। বাতাসের গতিবেগ তখন ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। পরে আরও উত্তর-পূর্বে এগিয়ে যায় ফণী। শনিবার দুপুরে বাংলাদেশকে ঝুঁকিমুক্ত বলে আবহাওয়া অফিস। জানায়, শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঝড়টি। ৭ ও ৬ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে, সমুদ্রবন্দরকে দেখাতে বলা হয় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত।

বাংলাদেশ ভূখণ্ড পেরিয়ে ভারতের আসাম ও মেঘালয় থামতে পারে ঝড়টি। হিমালয়ে বাধা পাওয়ায় মেঘালয় ও সিলেটে বৃষ্টি হতে পারে ২০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত। এতে হাওরাঞ্চলে হঠাৎ বন্যার শঙ্কা রয়েছে।এছাড়া, ঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে দুই থেকে চার ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে উপকূলীয় এলাকার দ্বীপ ও চরাঞ্চল।

তথ্যঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট
অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে