সুন্দরবন বহু মানুষের জীবন ও জীবিকার উৎস এবং পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। সুন্দরবন যেমন বাংলাদেশের ঐতিহ্য তেমনি মধুও সুন্দরবনের ঐতিহ্য। দেশ বিদেশে সুন্দরবনের মধুর চাহিদা এবং সুখ্যাতি দুইই রয়েছে। তবে সুন্দরবনের মধু ও মধু হতে তৈরি পণ্যের গুণগত মানের উপর নির্ভর করছে এই ব্যবসার ভবিষ্যৎ। সঠিক মানের নিশ্চয়তা পেলে সুন্দরবনের মধুই হতে পারে মৌয়ালদের আয়ের উৎস।
মধু ব্যবসার প্রসারে আয়োজিত ত্রিবার্ষিক সভায় উপস্থিত বক্তারা এমন কথাগুলোই বলছিলেন। ২৬’শে জানুয়ারি/১৯ শনিবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর জেলেপল্লীতে “সুন্দরবন মৌয়াল শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড”র কার্যালয়ে সভাটি সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি-বেডস, জাপান এনভায়রনমেন্টাল এডুকেশান ফোরাম-জীইইএফ এবং মৌয়াল শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড সভাটি হয়।
জাপানের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক তৃণমূল প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় বেডস্ ও জীইইএফ ২০১৫ সাল থেকে “দরিদ্র মৌয়ালদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিবেশ ব্যবস্থা সংরক্ষণ” নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই মৌয়ালগণ মেশিনের সাহায্যে মধু প্রকৃয়াজত করছে এবং মধু থেকে চকলেট, মিনিপ্যাক তৈরি করছে। দ্রুত তাঁরা মধু দিয়ে সাবান তৈরি করবেন।
সভায় প্রকল্পের তিন বছরের কার্যক্রম, প্রকল্পের মাধ্যমে মৌয়ালদের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনসমূহ এবং সুন্দরবনাঞ্চলে মধু ব্যাবসা সম্প্রসারণে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। সভায় মৌয়ালগণ প্রাকৃতিক মধুর ব্যবসার প্রসারে খাঁটি মধুর নিশ্চয়তা ও মধু পণ্যের গুণগত মান রক্ষার জোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবু উৎপল কুমার জোয়াদ্দার, জি এম ফজলুল হক, মিসেস নূরজাহান বেগম, মিসেস জামেলা বেগম(বেডস্)’র প্রধান নির্বাহী মো. মাকছুদুর রহমান, প্রকল্প ব্যবস্থাপক শান্তনু বিশ্বাস, নুরুল আমিন, মেহেদী হাসান, মো. জামান উল্লাহ, নাহিদ মাহমুদ, মো. হাফিজুর গাজী ও আশীষ কুমার মন্ডল; মৌয়ালগণ, মধু ব্যবসায়ীবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্স নিউজ














