আমদানি-রপ্তানির নামে ভুল তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে। অর্থ পাচার নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান- জিএফআই তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে- ২০১৫ সালে এভাবে বাংলাদেশ থেকে ৫৯০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। এভাবে পাচার রোধে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জিএফআই।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইনানসিয়াল ইন্টিগ্রিটি-জিএফআই উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে অর্থ পাচার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে ২০০৮ সাল থেকে। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১শ’ ৪৮টি উন্নয়নশীল দেশে অবৈধ আর্থিক প্রবাহ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমদানি ও রফতানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই অর্থ পাচার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিএফআই জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ, এই দুই প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়ে আলাদা আলাদা করে অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরেছে।

দুই প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতেই ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অর্থপাচারে শীর্ষ ৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য নিয়ে জিএফআই তাদের প্রতিবেদনে বলেছে- ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫শ’ ৯০ কোটি ডলার। যা টাকার অংকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

এই তালিকায় প্রাকৃতিক সম্পদশালী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া আর ইউরোপের তুরস্ক, হাঙ্গেরি, পোলান্ড ও ব্রাজিলও রয়েছে। অন্যদিকে এশিয়ার মালয়েশিয়া, ভারত, ফিলিপিনস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো রয়েছে।

এই অর্থ পাচারের কারণে দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে উলে­খ করেছে সংস্থাটি। পাচার রোধে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে জিএফআই এর প্রতিবেদনে। সরকারকে আর্থিক লেনদেনকারীদের বিষয়ে আরো নজরদারী, অর্থপাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, বিভিন্ন দেশের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান এবং করসংক্রান্ত নীতির পরিবর্তন করা হলে তা অন্যদেশ এবং সংস্থাগুলোকে অবহিত করার পরামর্শ রয়েছে প্রতিবেদনে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে