ভারতের শ্রীনগরের শিক্ষার্থী ফাইজার ফারুক। চলতি শিক্ষাবর্ষে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে সার্ক দেশের কোটায় ভর্তির জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। ভর্তির জন্য যে মার্কসিট জমা দিয়েছেন তা ঘষামাজা করে নম্বরও বাড়ানো হয়েছে। জীব বিজ্ঞানে ১০০ নম্বর থাকার কথা থাকলেও মূল মার্কসিটে দেখা গেছে আছে ৯৩। এছাড়া মোট নম্বরও বাড়ানো হয়েছে।

দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে সার্ক দেশের কোটায় বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে বিপুল অংকের অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অহরহ এ ধরনের কার্যক্রম হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের একটি চক্র এই অর্থ লেনদেনে জড়িত। এছাড়াও ভুয়া টেন্ডার ও জাল ভাউচার দিয়ে কেনাকাটার বিল দাখিল করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের তদন্ত করতে গিয়ে মেডিকেলে ভর্তি জালিয়াতির সন্ধান পায় দুর্নীতি দমন কমিশন। স্বাস্থ্য অীধদপ্তরের এই অসাধু চক্রের  হোতা হিসাব রক্ষক আফজাল হোসেনের শ্যালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী রেজাউল ইসলাম ওরফে রুলবুল ইসলাম। এই চক্রের সক্রিয় সদস্য রয়েছে ২০ থেকে ২৫ জন। এছাড়া দেশের বাইরেও এদের লোক আছে যাদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য অর্থ আদায় করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা শাখায় এই চক্রটি সক্রিয়। দুদকের অনসন্ধানে আরো দেখা গেছে গত ৫ শিক্ষাবর্ষে সার্ক কোটার বাইরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজেও অর্থের বিনিময়ে ভর্তি করেছেন অন্তত ৪ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী।

আফজাল হোসেন সিন্ডিকেটের আরো ৫ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক। এরা হলেপ- ফরিদপুর টিবি হাসপাতালের ল্যাব এটেনডেন্ট বেলায়েত হোসেন, জাতীয় এজমা সেন্টরের হিসাবরক্ষক লিয়াকত হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী আফজালের শ্যালক রেজাউল ইসলাম ওরফে রুলবুল ইসলাম, গাড়ি চালক রকিবুল ইসলাম, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অফিস সহকারী শরিফুল ইসলাম।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে