সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ জিতলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্বাগতিকদের ৫০ রানে হারিয়েছে সফরকারীরা। যদিও ক্যারিবিয়দের দেয়া ১৯১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার লিটন দাশের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ফ্যাবিয়েন অ্যালেনের পরপর দুই বলে সৌম্য, সাকিব ও মুশফিক উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসলে বিপদে পড়েছে স্বাগতিকরা। ১৯১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২২ রানে রান আউটের ফাঁদে পড়েন তামিম ইকবাল। তবে ক্যারিবীয় বোলারদের উপর তান্ডব চালান লিটন। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে আসে ৩০ রান। তবে এই ওভারেই লিটন দাশের আউট নিয়ে সৃষ্টি হয় বিতর্ক। আম্পায়ার নো বল ডাকলেও তা মানতে নারাজ ছিল ক্যারিবীয়রা।

পঞ্চম ওভারেই ঘটে ছন্দপতন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ফিরে যান সৌম্য ও সাকিব। ষষ্ঠ ওভারে কেমো পলকে উইকেট দিয়ে আসেন মুশফিক। এর আগে, উইন্ডিজদের উদ্বোধনী জুটিতে নামেন শাই হোপ এবং এভিন লুইস। ৫ ওভারেই তারা তুলে নেন ৭৬ রান। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে সাকিব বোল্ড করে ফেরান ১২ বলে তিনটি চার আর একটি ছক্কায় ২৩ রান করা শাই হোপকে। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে সফরকারীরা তুলে নেয় ৮৮ রান। ১৮ বলে নিজের ফিফটি তুলে নেন এভিন লুইস। ইনিংসের সপ্তম ওভারে মোস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন কেমো পলকে (২)।

অবশেষে লুইস ঝড় থামান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনিংসের দশম ওভারে সাকিব বল তুলে দেন তার হাতে। নিজের দ্বিতীয় বলেই লুইসকে বোল্ড করেন রিয়াদ। বিদায়ের আগে যা করার করেন লুইস। ক্যারিবীয়ান এই ওপেনার ৩৬ বলে ৬টি চার আর ৮টি ছক্কায় করেন ৮৯ রান। পরের বলেই এলবির ফাঁদে পড়েন শিমরন হেটমেয়ার। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগলেও হয়নি। ইনিংসের ১৪তম ওভারে রিয়াদের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ১৬ বলে ১৯ রান করা রোভম্যান পাওয়েল।

ইনিংসের ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজ এসে ফিরিয়ে নিকোলাস পুরানকে। আবু হায়দার দারুণ এক ক্যাচ নেন। বিদায়ের আগে ২৪ বলে দুটি চার আর দুটি ছক্কায় পুরান করেন ২৯ রান। একই ওভারে মোস্তাফিজ ফেরান কার্লোস ব্রাথওয়েইটকে। স্লিপে মেহেদি মিরাজের দুর্দান্ত এক ক্যাচে ফেরার আগে উইন্ডিজ দলপতি ৭ বলে করেন ৮ রান। ১৯তম ওভারে সাকিব ফিরিয়ে দেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে (৮)। স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি। একই ওভারে অভিষিক্ত শেরফানে রাদারফোর্ডকেও (২) বিদায় করেন সাকিব। মাহমুদউল্লাহর করা শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে রানআউট হন ওশানে থমাস।

৪ ওভারে ৩৭ রানে সাকিব তিনটি উইকেট নেন। ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে মোস্তাফিজ নিয়েছেন তিনটি উইকেট। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৩.২ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচ করে নিয়েছেন ‍তিনটি উইকেট। ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি সাইফউদ্দিন। মিরাজ ২ ওভারে ২৬ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। আবু হায়দার রনি ২ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন।

 

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে