ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিশ্ব রাজনীতির চেনা অনেক সমীকরণ ওলটপালট করে চলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চীন, উত্তর কোরিয়া বা ইরান ইস্যুতে নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে নজর সবার। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলেও এ নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।
যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবেন ডনাল্ড ট্রাম্প। আর বিরোধ ডেমোক্রেটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে পদে পদে প্রশ্নের মুখে পড়বে ট্রাম্পের নানা পদক্ষেপ। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার বিশেষ মনোযোগ থাকছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। দায়িত্বে আসার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে রহস্যজনক করে তুলেছেন ট্রাম্প। ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয় শক্তিধর রাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকে দেশটির উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানও নানা পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা জয় পেলে কিছুটা স্বস্তি পাবে ইরান। অন্যদিকে, শুরুর দিকে ধুন্ধুমার বাধলেও গত কয়েক মাসে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চলছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে। ‘কোরিয়ান’ যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির জন্য মার্কিন সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোট দরকার। আর মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিক শিবিরের জয় সেই সম্ভাবনাকে আরো জোরদার করবে।
আবার, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনও সতর্ক নজর রাখছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। ট্রাম্প প্রশাসন আরো শক্তিশালী হয়ে উঠলে তা চীনের বাণিজ্য সম্ভাবনার জন্য ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না ইউরোপিয়ান ইউনিয়নেরও। পাশাপাশি ন্যাটোর সামরিক জোটও অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন ট্রাম্প। এমন অবস্থায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করছে মার্কিন প্রশাসন। এক যৌথ বিবৃতিতে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং এফবিআই ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পেলেও নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে রাশিয়া, চীন ও ইরান মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























