বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে চরম বিপর্যয় ঠেকাতে সময় আছে আর মাত্র ১২ বছর- এমনটাই জানিয়েছে জাতিসংঘ। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারগভার্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর প্রতিবেদনে এ সতর্কতা দেয়া হয়। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়।
আর মাত্র ১২ বছর। এর মধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তন না রুখতে পারলে আর কোনভাবেই সম্ভব হবেনা পৃথিবীর তাপমাত্রার স্বাভাবিকতা বজায় রাখা। জাতিসংঘের জলবায়ু প্যানেল আইপিসিসি’র এক প্রতিবেদনে ভয়াবহ এ সতর্কবাণী দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইচানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আইপিসিসি বলছে, বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা জরুরী। তবে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা এরই মধ্যে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণেই মূলত সাগরের পানির স্তর বেড়ে যাওয়া, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং খরার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। বেড়ে চলেছে এসব দুর্যোগের কারণে অসংখ্য মানুষের দরিদ্র ও গৃহহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মহাসচিব পেট্টেরি তালাস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ইতিমধ্যে দৃশ্যমান এবং এটি বিশ্বজুড়ে মানুষের এবং বাস্তুসংস্থানের উপর প্রভাব ফেলছে। কিন্তু আমরা চাইলে এটা থামাতে পারি। এজন্য আমাদের প্রতিদিনকার জীবনযাত্রায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। ২০৩০ সালের শুরু বা এ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পেট্টেরি তালাস আরো বলেন, তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে আগামী ১০০ বছরে অ্যান্টার্কটিকায় ও গ্রিনল্যান্ডে বিশাল হিমবাহ গলে পড়বে। এবং এটি মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। বৈঠকে ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং চুক্তি বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি সই হয়। সেখানে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। অবশ্য, গত বছর ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় অন্যতম পরিবেশ দূষণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














