ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলরের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেছেন, ফুটবল একটি জনপ্রিয় খেলা। শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবী জুড়ে রয়েছে এর জনপ্রিয়তা। বিশ্বকাপ ফুটবলে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, বিশ্বব্যাপি এ খেলার রয়েছে অগণিত পুরুষ ও মহিলা দর্শক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ফুটবলের হারানো ইতিহাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, দেশব্যাপি প্রতিবছর বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল লীগ আয়োজনের মধ্যদিয়ে ফুটবলার তৈরীর কাজ চলছে। এমনকি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ফুটবলার বাছাই করে জাতীয় দল গঠন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের এ কর্মসূচির সাথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একাত্মতা ঘোষণা করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখতে চাই। তিনি বলেন, আমরা আজ গর্বিত যে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় জাতীয় ফুটবল দলে এবং ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে খেলার যোগ্যাতা অর্জন করেছে। তিনি আরও বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চায় আমরা আরও এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। প্রধান অতিথি বলেন, যুব সমাজকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করতে হলে ক্রীড়া চর্চার কোন বিকল্প নেই। আজ নিয়মিত ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার আয়োজন করায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে আমি মনেকরি। এ ফুটবল লীগের আয়োজন করায় শারীরিক শিক্ষা বিভাগকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ড. শাহিনুর রহমান। আজ রবিবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০১৮’র উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কমিটির আহবায়ক ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, আমি ফুটবলার ছিলাম। এজন্য ফুটবল আমার অত্যন্ত প্রিয় খেলা। তিনি বলেন, একসময় আমাদের দেশে নিয়মিত পাড়া-মহল্লায়, জেলা-উপজেলায় এমনকি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক ফুটবল খেলার আয়োজন করা হতো। কিন্তু আজ আকাশ সংস্কৃতির এ যুগে সেই আয়োজন আর নেই, কারণ আমাদের যুব সমাজ এখন খেলার মাঠে যেতে চায় না। তারা মাঠমুখি নয়, ঘর মুখি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, যুব সমাজকে যদি মাঠ মুখি করা না যায় তাহলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা পূর্ণাঙ্গ ভাবে গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই যুব সমাজকে আবারও মাঠমুখি হতে হবে। ট্রেজারার বলেন, একজন খেলোয়াড় দেশের রাষ্ট্রদূতের সমান কাজ করেন। যেমন আমরা একটি দেশের রাষ্ট্রপতির নাম না জানলেও সেই দেশের সেরা খেলোয়াড়কে আমরা চিনি এবং জানি। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। সুশৃংঙ্খল পরিবেশে ক্রীড়া নৈপূণ্য দেখাতে খেলোয়াড়দের প্রতি আহবান জানান ড. সেলিম তোহা। এছাড়াও তিনি আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তিসহ এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহেলের সভাপতিত্বে এবং উপ-পরিচালক শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুল আরফিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধনী খেলায় আইন বিভাগ ৪-১ গোলে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগকে পরাজিত করে। খেলাটি পরিচালনা করেন খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ থেকে আগত রেফারী মোঃ জিল্লুর রহমান, মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ রবিউল ইসলাম ও মোঃ জামাল হোসেন।

বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে