জার্মান কোম্পানির সহায়তায় বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে খুব শিগগিরি, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের চুক্তি সই করে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস৷ বাংলাদেশের পক্ষে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানির পক্ষে এর প্রধান নির্বাহী হান্স ভুলফগাং কুনজ একটি চুক্তিতে সই করেন। ডিসেম্বর-জানুয়ারি নাগাদ নাগরিকরা এই পাসপোর্ট হাতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে৷ বাংলাদেশে এখন প্রচলিত আছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট৷

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ পর্যন্ত ২ কোটিরও বেশি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) বাংলাদেশি নাগরিকদের দেয়া হয়েছে এবং ১১ লাখেরও বেশি মেশিন রিডেবল ভিসা বিদেশিদের দেয়া হয়েছে৷ এমআরপি পাসপোর্ট এখনই বন্ধ হয়ে যাবে না৷ ই-পাসপোর্ট পুরোপুরি চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত এমআরপি চালু থাকবে৷” অনুষ্ঠানে উপস্থিত জার্মান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়েলস আনেন বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ খুব অল্প সময়ে অগ্রগতি অর্জন করছে৷ জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানির বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এর আগেও আছে৷ আর আমরা বাংলাদেশিদের এ কাজে প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবো৷”
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানির পক্ষে এর প্রধান নির্বাহী হান্স ভুলফগাং কুনজ ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকার এই চুক্তিতে সই করেন। এর আওতায় ৩ কোটি ই-পাসপোর্ট বই, ৫০টি ই-গেইট, সব সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্কের বিভিন্ন ধরনের সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

যেভাবে ই-পাসপোর্টের কাজ হবে:
পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানায়, ভেরিডোস কোম্পানি ৩ কোটি ই-পাসপোর্ট বুকলেট সরবরাহ করবে৷ ঢাকার উত্তরায় বুকলেটের জন্য একটি অ্যাসেম্বল কারখানা স্থাপন করা হবে৷ এতে বুকলেটের খরচ অর্ধেকেরও কম হবে৷ ৫০ টি ই-গেট দেওয়া হবে৷ সকল সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক ১০ বছরের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদান করবে৷ একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ ডাটা সেন্টার ও একটি ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার এবং অত্যাধুনিক পার্সোনালাইজেশন সেন্টার নির্মাণ করা হবে৷ পার্সোনালাইজেশন সেন্টারে ৮ টি প্রিন্টিং মেশিন থাকবে এবং যার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রতি শিফটে ৩০ হাজারেরও বেশি পাসপোর্ট প্রিন্ট করা সম্ভব হবে৷
বাংলাদেশে ৭২ টি পাসপোর্ট অফিস, বিদেশে ৮০ টি মিশন, ৭২ টি এসবি-ডিএসবি অফিস, ২২টি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টসহ সকল অফিসে প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক প্রদান করবে৷ এই প্রকল্পের আওতায় ১০০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জার্মানিতে দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে৷
ই-পাসপোর্ট যেমন হবে। –ই-পাসপোর্টে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে৷ পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ ও ১০ বছর। বর্তমানে বই আকারে যে এমআরপি আছে, ই-পাসপোর্টেও একই ধরনের বই থাকবে। তবে বর্তমানে পাসপোর্টের বইয়ের শুরুতে ব্যক্তির তথ্যসম্বলিত যে দু’টি পাতা আছে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না৷ সেখানে থাকবে পালিমারের তৈরি একটি কার্ড৷ এই কার্ডের মধ্যে থাকবে একটি চিপ৷ সেই চিপে পাসপোর্টের বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে৷
ই-পাসপোর্টের সব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে ‘পাবলিক কি ডাইরেকটরি’তে (পিকেডি)৷ ই-পাসপোর্টের বাহক কোনো দেশের দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আবেদনকারীর তথ্যের সঙ্গে পিকেডিতে সংরক্ষিত তথ্য যাচাই করে নেবে৷ স্থল ও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষও একই পদ্ধতিতে পিকেডিতে ঢুকে ই-পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করবে৷
বাংলাদেশ ১১৯তম দেশ। মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে হাতে লেখা পাসপোর্টের বদলে ২০১০ সালে সশস্ত্র বাহীনির সহায়তায় প্রবর্তিত হয় মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট৷ কিন্তু মেশিন রিডেবল পাসপোর্টেও জালিয়াতি করা হচ্ছে বিধায় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনাকে আরও নির্ভুল, সহজতর, সময়-সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বিশ্বের ১১৮ টি দেশ ইতোমধ্যে ই-পাসপোর্ট প্রদান করেছে৷ এর ফলে বিশ্বে ১১৯তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু করছে বাংলাদেশ।
নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ

























